নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:৪৬:০৫
অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়বে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বুধবার (২৮ অক্টোবর)। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের উপকূলমুখী হওয়ায় বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা কম। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারেঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান, সম্ভাব্য গতিপথ ও দেশের আবহাওয়ায় এর প্রভাব সম্পর্কে এসব তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এ সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে থাকায় বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে প্রবেশের পর বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের ওড়িশা রাজ্যে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজ্যটির ঝুঁকিপূর্ণ ছয় জেলা- গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট ও নবরংপুরে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পাহাড়, জলপ্রপাত, বাঁধ ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ দিয়েছে বাংলাদেশ। শব্দটির অর্থ সমুদ্র বা সাগর। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আওতাধীন উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশ বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে অংশ নেয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ দেওয়া অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর ছিল অত্যন্ত উত্তাল।