বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে এ মাস গণনা শুরু হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এ এইচ এম কামরুজ্জামান।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভীসহ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি। এর মধ্যেই রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুসারে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রমজান মাস শুরু হতে পারে। এবার রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে, যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান, ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদের নতুন কলা দৃশ্যমান হতে পারে। এর ফলে ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে ১৪৪৮ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।হজ এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনানতুন এই হিজরি মাস শুরুর অর্থ হলো, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চার চন্দ্রমাস বাকি রইল। সরকারিভাবে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামিক চন্দ্রবর্ষের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি বা জটিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। চাঁদের অবয়বের পরিবর্তন লক্ষ্য করে মানুষ চাঁদের প্রথম কোলা, প্রথম চতুর্থাংশ এবং পূর্ণিমাসহ চন্দ্র মাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো চিহ্নিত করতে পারে। পরবর্তীতে চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান হয়ে একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।দৃশ্যমান এই পর্যায়গুলো চন্দ্র মাসগুলোর হিসাব রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় সরবরাহ করে, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারের ভিত্তি তৈরি করে।
৩ দিন আগে
মানুষ ভুল করে, গুনাহ করে। তবে গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। তাওবা হলো গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং জীবনকে সংশোধনের চেষ্টা করা।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করো।’ (সুরা হুদ: ৩)তবে তাওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আলেমরা তাওবার কয়েকটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করেছেন।১. গুনাহ ছেড়ে দিতে হবেযে গুনাহ থেকে তাওবা করা হচ্ছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। গুনাহের কাজ চালিয়ে গিয়ে শুধু মুখে তাওবা করলে তা আন্তরিক তাওবা হয় না। তাই তাওবার প্রথম শর্তই হলো- গুনাহের পথ থেকে বাস্তবে ফিরে আসা।২. গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হতে হবেতাওবার জন্য নিজের করা গুনাহের প্রতি অন্তরে অনুশোচনা থাকতে হবে। আল্লাহর অবাধ্যতা করার জন্য লজ্জিত হতে হবে এবং নিজের ভুলকে হালকা করে দেখা যাবে না।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)৩. আর গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবেতাওবার সময় অন্তরে দৃঢ় সিদ্ধান্ত থাকতে হবে যে, ভবিষ্যতে আর ওই গুনাহে ফিরে যাব না। পরে দুর্বলতার কারণে আবার একই গুনাহ হয়ে গেলে নতুন করে তাওবা করতে হবে। তবে তাওবার সময়ই যদি পুনরায় সেই গুনাহ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে তাওবা আন্তরিক হওয়ার বিষয়টি থাকে না।৪. মানুষের হক নষ্ট হলে তা আদায় করতে হবেগুনাহ যদি অন্য মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া ও পুনরায় না করার সংকল্পের পাশাপাশি সেই হকও আদায় করতে হবে। কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হবে। কারও ওপর জুলুম করলে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে অথবা হকদারের কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে।কারণ মানুষের হক নষ্ট হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সেই হকও আদায় করতে হয়।আল্লাহ তাআলা খাঁটি তাওবার দিকে আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো; খাঁটি তাওবা।’ (সুরা তাহরিম: ৮)
১ সপ্তাহ আগে
অনেক সময় আমরা মন থেকে দোয়া করি। দিনের পর দিন একই কথা আল্লাহর কাছে বলি। চোখের পানি ফেলে চাই। নামাজের পর হাত তুলি। রাতের নীরবতায় রবের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলি। তারপরও যখন কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আসে না, মনে প্রশ্ন জাগে- ‘আমার দোয়া কি কবুল হলো না?’কখনো মনে হয়, এত দোয়া করেও যখন কিছুই পেলাম না, তাহলে এত চাওয়ার কী অর্থ ছিল? আসলে একজন মুমিনের জন্য দোয়ার হিসাবটা এত সরল নয়। আমরা অনেক সময় দোয়াকে শুধু চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক দিয়ে দেখি। আমি চাইলাম, তাই আমাকে পেতে হবে। আমি কাঁদলাম, তাই আমার সমস্যার সমাধান হতে হবে। আমি রাত জেগে দোয়া করলাম, তাই আমার ইচ্ছাটি পূরণ হতে হবে।অথচ আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় আপনি কী চাইলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কার কাছে চাইলেন।দোয়া হারিয়ে যায় নাআবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো মুসলিম এমন দোয়া করলে যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন। হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা তা আখেরাতের জন্য জমা রাখেন, অথবা তার সমপরিমাণ কোনো অকল্যাণ তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন। সাহাবিরা বললেন, ‘তাহলে আমরা আরও বেশি দোয়া করব।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দানকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১১১৩৩)খেয়াল করুন, হাদিসে এমন কোনো চতুর্থ অবস্থা নেই যেখানে বলা হয়েছে- বান্দা দোয়া করল, কিন্তু সবই হারিয়ে গেল। অর্থাৎ দোয়ার ফল আমাদের চোখে না পড়লেও তা আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। তাই দুনিয়ায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই দোয়া ব্যর্থ হওয়া নয়।দোয়া নিজেই একটি ইবাদতদোয়া শুধু কোনো প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নয়। দোয়া নিজেই ইবাদত। নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়া-ই ইবাদত।’ (সুনান আবু দাউদ: ১৪৭৯)আপনি যখন আল্লাহর কাছে হাত তোলেন, তখন নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করেন। নিজের প্রয়োজন তাঁর সামনে তুলে ধরেন। নিজের শক্তির সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা করেন। এই ফিরে আসাটাও মূল্যহীন নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)আর বলেন, ‘আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)তাই আপনি যখন দোয়ার জন্য হাত তোলেন, তখন শুধু একটি চাওয়া নিয়ে দাঁড়ান না। আপনি নিজের রবের সামনে দাঁড়ান।আমরা যা চাই, সবসময় তা আমাদের জন্য ভালো নয়ধরুন, আপনি একটি চাকরির জন্য অনেক দোয়া করলেন। চাকরিটি পেলেন না। আপনি হয়তো ভাবলেন, ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’কিন্তু কে জানে, সেই চাকরিটি আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারত? হয়তো সেখানে এমন কিছু ছিল, যা আপনার ঈমান, পরিবার কিংবা জীবনের জন্য ভালো ছিল না। আপনি জানেন না। আল্লাহ জানেন।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আবার হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ করো অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)আমরা দেখি আজকের প্রয়োজন। আল্লাহ জানেন আগামীকাল কী আছে। আমরা দেখি একটি ঘটনা। তিনি জানেন তার পরিণতি। তাই কখনো কখনো না পাওয়াটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় রহমত।দোয়ার উত্তর পেতে দেরি হলে হতাশ হবেন নারাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। সে যেন এমন না বলে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম: ২৭৩৫)কত সহজেই আমরা এই ভুলটি করি! কয়েক দিন দোয়া করলাম। কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করলাম। তারপর মনে হলো, ‘হয়তো আমার দোয়া কবুল হবে না।’ অথচ দেরি মানেই প্রত্যাখ্যান নয়। একজন কৃষক মাটিতে বীজ বপন করে। কয়েক দিন পরও মাটির ওপরে কিছু দেখা যায় না। তাই বলে কি বীজটি নষ্ট হয়ে গেছে?সবকিছুর ফল চোখে দেখা যায় না। দোয়ার ক্ষেত্রেও এমন অনেক কিছু থাকে, যা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে।দোয়া ছেড়ে দেওয়া যাবে নাদোয়া কবুল হতে দেরি হলে দোয়া বন্ধ করে দেওয়া নিজের জন্যই ক্ষতি। আর দোয়ার পাশাপাশি একটি কথা মনে রাখা দরকার- নিজের আমল ও জীবনকেও ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। হারাম উপার্জন ও হারাম খাবার থেকে বাঁচতে হবে। গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।রাসুলুল্লাহ (স.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধুলোমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে রব, হে রব’ বলে দোয়া করে। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং তার শরীর হারাম দ্বারা পুষ্ট। রাসুলুল্লাহ (স.) প্রশ্ন করেছেন, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)তাই দোয়ার সঙ্গে নিজের সংশোধনের চেষ্টাও চলুক। দোয়া মানে হাত তুলে বসে থাকা নয়। দোয়া মানে চেষ্টা করে ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।যে দোয়াগুলোর উত্তর আমরা দেখিনিজীবনে এমন অনেক দোয়া থাকে, যার উত্তর আমরা বুঝতে পারি না। কেউ একটি সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য দোয়া করেছিল। সেটি টেকেনি। কেউ একটি চাকরি চেয়েছিল। সেটি হয়নি।কেউ কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। হয়তো সেই মুক্তি এসেছে অন্যভাবে। তখন মনে হতে পারে- ‘আমার দোয়া কবুল হলো না।’ কিন্তু মুমিন জানে, তার হিসাব এতটুকুতে শেষ নয়। হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিটাই ছিল- দুঃখের সময়ে সে আল্লাহকে ডেকেছিল।আজ যে দোয়ার জবাব দেখতে পাচ্ছেন না, সেটি নিয়ে হতাশ হবেন না। দীর্ঘদিন দোয়া করার পরও যদি আপনার চাওয়া পূরণ না হয়, হাত নামিয়ে নেবেন না। বলতে থাকুন, ‘হে আমার রব, আমি জানি না। আপনি জানেন। আমি দুর্বল, আপনি সর্বশক্তিমান। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই নির্ধারণ করুন।’আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন, আর যেসব দোয়ার ফল দুনিয়ায় আমাদের চোখে পড়বে না, সেগুলোর উত্তম প্রতিদান আখেরাতে দান করুন। আমিন।
১ সপ্তাহ আগে