কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও দুজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে।বুধবার (২১ অক্টোবর) মারিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পর্যটকের একটি দল হিমছড়ি মারিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে গোসলে নামে। সেখানে ঢেউয়ে স্রোতে ভেসে যায় তারা। এ সময় স্থানীয়রা একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও আরও দুজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এদিন দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি যাত্রা করবে।বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।তারা জানায়, বিমান আপাতত কেবল ২৫ অক্টোবর ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনাপূর্বক রিয়াদগামী অন্যান্য ফ্লাইটসমূহ পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।তারা আরও জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দাম্মামগামী ফ্লাইট আজ ২১ অক্টোবর থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে এসব ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর রাজধানী ঢাকা। পাঁচ দিনের পূজা শেষে আনন্দ-উৎসবের আবহে মিশেছে বিদায়ের বিষাদ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা।প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।এদিন বিকাল ৪টায় রাজধানীর পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর সড়ক ও রায়সাহেব বাজার হয়ে শোভাযাত্রাটি বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে পৌঁছায়।রাত ১০টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের মোট ১১টি ঘাট নির্ধারণ করা হয়েছে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ায় মর্ত্যে আগমনের পর পাঁচ দিন পূজা গ্রহণ করে বিজয়া দশমীতে কৈলাসে ফিরে যান দেবী দুর্গা। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক এই উৎসবের শেষ দিনে তাই একদিকে বিজয়ের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা।বুধবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দশমীর বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সিঁদুর খেলা। এ সময় সধবা নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজা কমিটির প্রায় ১০০ সদস্য অংশ নেন। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ কুমার বিশ্বাস সাধন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের প্রত্যাশা।দুর্গোৎসব ঘিরে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি ছিল মানবিক কর্মসূচিও। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসা রক্তদান কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, নবমীর রাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে ভক্তদের চোখেমুখে ছিল আবেগ আর বিষাদের ছাপ। লালবাগের বাসিন্দা শ্রাবণী দাস বলেন, এবার আগের বছরের চেয়ে বেশি আনন্দ করেছেন। তবে মা-কে বিদায় জানানোর সময় মন খারাপ হচ্ছে। আবার এক বছর পর দেবীর সঙ্গে দেখা হবে- এই প্রত্যাশাই তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।যদিও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মূল প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয় না। ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতিমাটি পরবর্তী বছরের পূজা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। এবার প্রতীকী বিসর্জন হিসেবে সপ্তমীতে প্রতিষ্ঠিত কলাবউ বিসর্জন দেওয়া হবে।এ বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টিসহ সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবের স্মৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা আর আগামী বছরের প্রতীক্ষা নিয়ে ঘরে ফিরছেন ভক্তরা।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে হারিয়ে তাদের জয়ের রথ থামিয়ে দিল পিএসজি। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৪-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইজের জোড়া গোলে নিশ্চিত হয় পিএসজির দুর্দান্ত জয়।ম্যাচের আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ জয়ের রেকর্ড ছিল হান্সি ফ্লিকের দলের। এই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৪৮ গোল করেছিল বার্সেলোনা। তবে পিএসজির মাঠে এসে সেই অপ্রতিরোধ্য যাত্রায় ছেদ পড়ল কাতালানদের।বুধবারের (২০ অক্টোবর) রাতের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার দৃঢ়তায় শুরুতে গোল পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যায় প্যারিসের দলটি।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে ফের্মিন লোপেজের পাস থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান জাভি এসপার্ট। এরপর লুকাস হার্নান্দেজের গোলে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি।তবে হাল ছাড়েননি বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ৭৯ মিনিটে গোল করে আবারও সমতা ফেরান তিনি। মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হবে দুই দলকে।কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় পিএসজি। ৮১ মিনিটে আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে ফিরতি বল পেয়ে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন ভিতিনিয়া। ৮৬ মিনিটে হাকিমির ক্রস থেকেই সহজ টোকায় ব্যবধান বাড়ান ফাবিয়ান রুইজ। তাতেই বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির।ম্যাচে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। পিএসজি ২২টি শট নেয়, আর বার্সেলোনার শট ছিল ১৮টি। বার্সেলোনার গোলরক্ষক গার্সিয়া ১০টি সেভ করেও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেননি।এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারা ১৩ ম্যাচে নিয়ে গেল পিএসজি। অন্যদিকে, মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে বুঝিয়ে দিল তারা এখনো বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। উড়ন্ত বার্সাকে মাটিতে নামিয়ে আত্মবিশ্বাসী এক জয় তুলে নিল প্যারিসের ক্লাবটি।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রজনীকান্ত এখনো নিজেকে সেই বাস ড্রাইভারই ভেবে থাকেন। সেই কথা অনেকবার অনেক সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেছেন। অভিনয় তার নেশা। সেই নেশা থেকে এবার দুর্গাপূজায় মুক্তি পেয়েছে তার সিনেমা ‘জেলার ২’। এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘জেলার’। সিনেমাটি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়েছিল। এ ছাড়া সিনেমাটির গানও পেয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। বক্স অফিস সাফল্যে সেই ধারাবাহিকতা যেন এবারও অব্যাহত থাকছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল বটে। কিন্তু মুক্তির পর এতটা সাড়া পাবে, এটা হয়তো অনেকেই কল্পনাও করেননি। সেই অভাবনীয় সাফল্যই পাচ্ছে এ তামিল সুপারস্টার অভিনীত ‘জেলার ২’। সিনেমাটিতে রজনীকান্তের সঙ্গে আছেন বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান, এসজে সুরিয়া, মিঠুন চক্রবর্তী, রাম্য কৃষ্ণান, যোগী বাবু প্রমুখ। অতিথি চরিত্রে আছেন মোহনলাল, শিবা রাজকুমার, হৃতিক রোশন, জ্যাকি শ্রফ, বিজয় সেতুপতি প্রমুখ। এর আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মুক্তি পেয়ে মাত্র চার দিনেই সিনেমাটি ৪০০ কোটি রুপির মেগা ক্লাবে প্রবেশ করেছে। চার দিন শেষে এর বিশ্বব্যাপী আয় ৪২৪ কোটি রুপিরও বেশি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।‘জেলার ২’ সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনই আয় করেছিল ১২৫ কোটি রুপি। দ্বিতীয় দিন ৮৫ কোটি, তৃতীয় দিন ১০৮ কোটি এবং চতুর্থ দিন ১০০ কোটি রুপি আয় করে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটির ব্যবসা জমজমাট। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে ১৯০ কোটি রুপি। এর মধ্য দিয়ে তামিল সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের উইকেন্ড পেল ‘জেলার ২’। তাই বক্স অফিসে সিনেমাটি আরও রেকর্ড গড়তে পারে— এমনই ধারণা বিশ্লেষকদের।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কায় গত তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম বাড়তির দিকে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও এক ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।এরআগে মঙ্গলবার সকালেই তেল বিক্রির বাজারে এই দাম বাড়ার প্রভাব চোখে পড়ে। লেনদেনের একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০.০৭ ডলারে। এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১০.৭০ ডলারে উঠেছিল, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪.০৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী আবারও সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি বাড়লে তেলের সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি চাপের মুখে থাকতে পারে।সূত্র : আল-জাজিরা
১৪ ঘন্টা আগে
বাবা-মা সন্তানের জীবনে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁদের প্রতি সদাচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। তবে বাবা-মাও মানুষ, তাঁদেরও ভুল হতে পারে। কখনো তাঁরা নামাজে অবহেলা করেন, কখনো অন্যের প্রতি অন্যায় করেন, আবার কখনো পারিবারিক বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান কি চুপ থাকবে, নাকি ভুল ধরিয়ে দেবে? ধরিয়ে দিলে কীভাবে বলবে?ইসলাম বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যায় থেকে সতর্ক করার শিক্ষা দেয়। তাই তাঁদের ভুল দেখলে অপমান না করে, প্রজ্ঞা ও সদাচরণের সঙ্গে সংশোধনের চেষ্টা করা সন্তানের দায়িত্ব।সম্মান বজায় রেখেই ভুল ধরিয়ে দিতে হবেআল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের উফ বলো না এবং তাঁদের ধমক দিয়ো না। তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা ইসরা: ২৩)বাবা-মায়ের কোনো ভুল চোখে পড়লেও গালমন্দ করা, অপমান করা কিংবা রাগের মাথায় কটু কথা বলা যাবে না। ভুল বুঝিয়ে বলার সময়ও ভাষা ও আচরণ হতে হবে শালীন।ইবরাহিম (আ.)-এর দৃষ্টান্তবাবাকে ভুল বোঝানোর ক্ষেত্রে নবী ইবরাহিম (আ.)-এর আচরণ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। তাঁর বাবা মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিলেন। ইবরাহিম (আ.) তাঁকে সেই ভুল থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সম্বোধনে সম্মান বজায় রেখেছেন।তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার পিতা, আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন, যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না? হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে, যা আপনার কাছে আসেনি। অতএব আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাব।’ (সুরা মরিয়ম: ৪২-৪৩)বাবা তাঁকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিলেও ইবরাহিম (আ.) বলেছিলেন, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আমার রবের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।’ (সুরা মরিয়ম: ৪৭)এই ঘটনা শেখায়, সত্য কথা বলার সময়ও সম্বোধন ও ভাষায় সংযম রাখা জরুরি।ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সঠিক পদ্ধতিবাবা-মাকে কিছু বলার আগে নিশ্চিত হতে হবে, বিষয়টি সত্যিই অন্যায় কি না। কোনো সিদ্ধান্ত নিজের অপছন্দের হলেই সেটি অন্যায় হয়ে যায় না। ধর্মীয় বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর দলিল যাচাই করা জরুরি। আলেমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতভেদ থাকলে নিজের পছন্দের মতটিকে একমাত্র সঠিক বলে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শোনা কথা বা কুধারণার ভিত্তিতেও কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না। (দ্র: সুরা হুজুরাত: ১২)সম্ভব হলে অন্যদের সামনে ভুল ধরিয়ে না দিয়ে একান্তে, শান্ত সময়ে কথা বলা ভালো। ‘আপনি সব সময় ভুল করেন’ এভাবে না বলে নির্দিষ্ট বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যেতে পারে। যেমন, ‘আমি বিষয়টি এভাবে জেনেছি, আপনি কি একটু যাচাই করে দেখবেন?’ ধর্মীয় বিষয়ে প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য আলেমের বক্তব্য বা প্রামাণ্য বইয়ের সাহায্য নেওয়া যায়।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা নাহল: ১২৫) আল্লাহ তাআলা মুসা ও হারুন (আ.)-কেও ফেরাউনের কাছে কোমল ভাষায় কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সুরা তাহা: ৪৩-৪৪) বাবা-মাকে নসিহত করার সময় এই শিক্ষা মনে রাখা দরকার।নিজের আচরণেও ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে। সন্তান নিজেই যদি রূঢ় আচরণ করে, দায়িত্বে অবহেলা করে বা অন্যের অধিকার নষ্ট করে, তাহলে তার উপদেশের মূল্য কমে যেতে পারে।অন্যায় নির্দেশে আনুগত্য নয়, সদাচরণ আছেবাবা-মা গুনাহের কাজে নির্দেশ দিলে তা পালন করা যাবে না। তবে তাঁদের নির্দেশ অমান্য করার সময়ও সদাচরণ বজায় রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করতে চাপ দেয়, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। তবে দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।’ (সুরা লুকমান: ১৫)রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পাপের কাজে কোনো আনুগত্য নেই। আনুগত্য সৎকাজেই।’ (সহিহ বুখারি: ৭২৫৭)অতএব, বাবা-মা কাউকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করতে কিংবা কারও প্রতি জুলুম করতে বললে সেই নির্দেশ মানা যাবে না। তবে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা বা সম্পর্ক ছিন্ন করাও সমাধান নয়।সন্তানের দায়িত্ব কতটুকু?আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ও নিজেদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম: ৬) এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নিজের দ্বীন মেনে চলার পাশাপাশি সাধ্যমতো পরিবারকে ভালো কাজে উৎসাহিত করাও দায়িত্বের অংশ।তবে কাউকে সৎপথে আনার চেষ্টা করা আর হেদায়াত দেওয়া এক বিষয় নয়। হেদায়াত দেয়ার মালিক একজন। সে বিষয়টি উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলেছেন, ‘আপনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন।’ (সুরা কাসাস: ৫৬) তাই সন্তান ভালো পরামর্শ দেবে, নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবে এবং বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবে। তাঁরা ভালো কথা গ্রহণ না করলে হতাশ হয়ে যাওয়া উচিত নয়।রাসুলুল্লাহ (স.) অন্যায় দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে বলেছেন; সক্ষম হলে হাত দিয়ে প্রতিরোধের কথা এসেছে হাদিসে। (সহিহ মুসলিম: ৪৯)তবে এই হাদিসের অর্থ বাবা-মায়ের ওপর জোর খাটানো বা তাঁদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো নয়। অন্যায় প্রতিরোধের পদ্ধতি নির্ধারণে জ্ঞান, সামর্থ্য এবং সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করতে হয়। কোনো পদক্ষেপে আরও বড় অন্যায় বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ইমাম নববি (রহ.) তাঁর শরহ মুসলিমে অন্যায় প্রতিরোধবিষয়ক হাদিসের ব্যাখ্যায় এ ধরনের বিবেচনার গুরুত্ব আলোচনা করেছেন।বোঝানোর পরও কাজ না হলে কী করবেন?বারবার বোঝানোর পরও বাবা-মা ভুল থেকে ফিরে না এলে একই কথা যখন তখন বলে বিরক্তি তৈরি না করে কিছুদিন বিরতি দেওয়া যেতে পারে। পরে সুযোগ বুঝে শান্ত পরিবেশে আবার নম্রভাবে কথা বলুন। পরিবারের এমন কোনো বিচক্ষণ আত্মীয় বা বিশ্বস্ত আলেমের সাহায্য নিন, যাঁর কথা তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন। তাঁদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করুন এবং সেবা ও সদাচরণ বজায় রাখুন।বাবা-মা রাগ করে গালমন্দ করলে চুপ থাকা বা সেখান থেকে সরে যাওয়া ভালো। নিজের উত্তেজনার কারণে কটু কথা বলে ফেললে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত।বাবা-মায়ের সঙ্গে স্ত্রীর বিরোধ বা দুর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে। স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে হবে, তবে বাবা-মাকে অপমান না করে শান্তভাবে সমাধান খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে আগের মতো একই পরামর্শ বারবার না দিয়ে নিরপেক্ষ ও বিচক্ষণ কারও সহায়তায় বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা যায়।তবে গুরুতর নির্যাতন, নিরাপত্তার ঝুঁকি বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনা ঘটলে শুধু পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে চুপ থাকা ঠিক নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্বস্ত ব্যক্তি, যোগ্য আলেম কিংবা আইনসম্মত সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।বাবা-মায়ের গুনাহের দায় কি সন্তানের ওপর পড়ে?না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা আনআম: ১৬৪; সুরা ফাতির: ১৮) প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আমলের জন্য জবাবদিহি করবে। তবে বাবা-মায়ের আচরণের কারণে সন্তানের জীবনে পারিবারিক ও মানসিক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিজের আমল ঠিক রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে পরিবারে ভালো পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা উচিত।
চিপস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্ন্যাকস। অলস সময় কাটানো, সিনেমা দেখা কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এক প্যাকেট চিপস খুবই স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবে স্বাদের দিক থেকে চিপস যতটা লোভনীয়, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে এটি ঠিক ততটাই উদ্বেগজনক। চিপস হলো একটি ‘আল্ট্রা-প্রসেসড’ (অতি-প্রক্রিয়াজাত) খাবার, যার নিয়মিত গ্রহণ শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।চলুন জেনে নেওয়া যাক এই মুখরোচক স্ন্যাকসটি কী কী স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি করে। মারাত্মক রাসায়নিক ‘অ্যাক্রিলামাইড’ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিআলুর মতো শর্করাবহুল খাবার যখন খুব উচ্চ তাপমাত্রায় (১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) তেলে ভাজা বা বেক করা হয়, তখন এতে প্রাকৃতিকভাবে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামের একটি রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার মতে, অ্যাক্রিলামাইড মানবদেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চিপসে এই উপাদানের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশ বেশি থাকে।উচ্চমাত্রার সোডিয়াম ও কিডনি-রক্তচাপের ক্ষতিচিপস অত্যন্ত নোনতা স্বাদের হয়। এক প্যাকেট চিপসে একজন মানুষের সারাদিনের প্রয়োজনীয় সোডিয়ামের একটি বড় অংশ থাকে। অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণের ফলে রক্তনালির ওপর চাপ বাড়ে এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।রক্তে অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীর থেকে ছেঁকে বের করতে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যা ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে। শরীরে পানি জমে যাওয়ার (Water retention) সমস্যা তৈরি হয়।ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট ও হৃদরোগের ঝুঁকিপ্যাকেটজাত চিপস মচমচে রাখা এবং দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য সাধারণত বারবার ব্যবহৃত পাম তেল বা হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল অয়েলে ভাজা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়।এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হয়, যা অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধি (এম্পটি ক্যালরি)চিপসে প্রচুর ক্যালরি থাকে, কিন্তু এতে শরীর গঠনের মতো কোনো খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ভিটামিন বা মিনারেল থাকে না। পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘এম্পটি ক্যালরি’। নিয়মিত চিপস খেলে খুব দ্রুত মেদ বাড়ে, বিশেষ করে পেটে ক্ষতিকর চর্বি জমে, যা সামগ্রিক স্থূলতার অন্যতম বড় কারণ।টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিআলু দিয়ে তৈরি চিপসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত্যন্ত বেশি থাকে। চিপস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ভেঙে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এভাবে রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেয়।মস্তিষ্কে আসক্তি তৈরি (‘ব্লিস পয়েন্ট’)চিপস এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে এতে লবণ, চিনি ও ফ্যাটের এক বিশেষ অনুপাত থাকে, যাকে খাদ্যশিল্পে বলা হয় ‘ব্লিস পয়েন্ট’। এছাড়া এতে স্বাদবর্ধক হিসেবে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়।এই উপাদানগুলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’কে উত্তেজিত করে ডোপামিন ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে একবার চিপস খাওয়া শুরু করলে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক বলে ‘আরও খাও’। এর ফলে মানুষ এক বসাতেই পুরো বড় প্যাকেট শেষ করে ফেলে এবং এতে একধরনের আসক্তি তৈরি হয়।পেটের সমস্যা ও হজমে ব্যাঘাতচিপসে কোনো প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে না, উল্টো থাকে কৃত্রিম রং, রাসায়নিক ফ্লেভার ও প্রিজারভেটিভ। এটি নিয়মিত খেলে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হয়, পেটে জ্বালাপোড়া ও বদহজম দেখা দেয়।শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাবশিশুদের ক্ষেত্রে চিপসের ক্ষতি আরও গভীর। এটি খেলে শিশুদের মুখের স্বাভাবিক খাবারের রুচি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তারা ঘরের পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে চায় না। এর ফলে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, অতিচঞ্চলতা, দাঁতের ক্ষয় এবং অল্প বয়সেই ওবেসিটি (অতিস্থূলতা) দেখা দেয়।চিপসের স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী হতে পারে?চিপসের মচমচে স্বাদ পাওয়ার জন্য প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত চিপসের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর কিছু বিকল্প বেছে নেওয়া যায়:ঘরে তৈরি ভেজিটেবল ক্রিস্প: ওভেনে বা এয়ার-ফ্রায়ারে খুব সামান্য অলিভ অয়েল ও মসলা দিয়ে মিষ্টি আলু, কাঁচকলা বা গাজরের পাতলা স্লাইস বেক করে নেওয়া।পপকর্ন: খুব কম লবণ ও সামান্য বাটারে বাড়িতে ফুটানো সাধারণ পপকর্ন ফাইবারসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর।ছোলা বা বাদাম ভাজা: তেল ছাড়া বালিতে ভাজা ছোলা, চিনাবাদাম বা কাজুবাদাম প্রোটিন ও ভালো ফ্যাটের চমৎকার উৎস।মাখনা: অল্প ঘিয়ে সামান্য গোলমরিচ ও বিট লবণ দিয়ে রোস্ট করা মাখনা খুবই পুষ্টিকর একটি বিকল্প।মাঝে মধ্যে স্বাদের জন্য এক-আধটু চিপস খেলে হয়তো শরীরে বড় কোনো ক্ষতি হবে না; কিন্তু এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা বা প্রতিদিনের নাশতায় প্যাকেটজাত চিপস রাখা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যথাসম্ভব পরিহার করাই নিরাপদ।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
চীনা ভাষায় কথা বলা এক হ্যাকার শতাধিক কোম্পানির ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিয়ার’, গৃহস্থালি সরঞ্জাম কোম্পানি ‘শার্কনিঞ্জা’ এবং ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কামিন্স’। অথচ এই হ্যাকারকে নিজ থেকে তেমন কিছুই করতে হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একজন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।এসব ওয়েবসাইট হ্যাকের জন্য এআইকে নির্দেশনা দিতে মোট ৫ হাজার ডলার খরচ হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রতিটি ওয়েবসাইট হ্যাকিং করতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ ডলার।সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি নরফোর্জের প্রধান হুমকি বিষয়ক গবেষক স্নোরে ফাগারল্যান্ড জানান, এই সাইবার অপরাধী হ্যাকিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি এআই এজেন্টগুলোকে এমনভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন যে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে ওয়েবসাইটগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং সেগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছে।সোমবার প্রকাশিত হওয়ার আগে রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ফাগারল্যান্ড জানান, তিনি ইন্টারনেটে ‘কেয়ার্ন’ নামক একটি ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্মের অনিচ্ছাকৃতভাবে উন্মুক্ত হয়ে থাকা সংস্করণগুলো খুঁজছিলেন। এই প্ল্যাটফর্মটি সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি হলেও হ্যাকারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ফাগারল্যান্ডের ভাষ্য, গত ২ অক্টোবর থেকে তিনি প্রায় ২৪টি ক্ষেত্রে কেয়ার্নের ক্ষতিকারক ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন। সাইবার অপরাধীরা যখন এআই টুলগুলোকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল, তখন তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর গোপনে নজর রাখার সুযোগ পান তিনি।ফাগারল্যান্ডের প্রতিবেদনে চীনাভাষী হ্যাকারের কথা উল্লেখ থাকলেও ভুক্তভোগী কোম্পানিগুলোর নাম দেওয়া হয়নি। তবে রয়টার্স হ্যাকারের ‘কেয়ার্ন’ ব্যবহারের কার্যক্রমগুলো স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।স্বয়ংক্রিয় এআই টুলের ক্ষমতা নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ফাগারল্যান্ডের এই আবিষ্কারটি একটি বাস্তব প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। এটি দেখিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ এআই এজেন্টগুলো মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জটিল কাজ করতে সক্ষম। এতে ক্ষতিকর ব্যক্তির সক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।ফাগারল্যান্ড বলেন, ‘আমরা এখন এক নতুন পৃথিবীতে বাস করছি।’এই অনুপ্রবেশের ফলে ঠিক কী পরিমাণ তথ্য অননুমোদিতভাবে চুরি হয়েছে, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।‘ডিয়ার’ রয়টার্সকে জানিয়েছে, ঘটনার পর তারা ‘প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার মতো ইঙ্গিত পায়নি তারা।‘শার্কনিনজা’ জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের শিকার ওয়েবসাইটটি ছিল একটি স্বতন্ত্র সাইট, যেখানে কেবল পণ্যের সহায়তা সংক্রান্ত তথ্য ছিল এবং হুমকিটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কামিন্স জানিয়েছে, ‘আমাদের তৃতীয় পক্ষের কোনো ভেন্ডরের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য সাইবার হামলার যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।’আরও দুটি ছোট প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে, তারাও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। কেয়ার্নের ডেটায় উল্লিখিত অন্যান্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা, বড় সাইবার হামলাফাগারল্যান্ড যে হ্যাকারদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের মধ্যে একজন প্রচুর পরিমাণে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করেছে। অন্য একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট ব্যবহার করে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। চীনাভাষী হ্যাকারটি ছিল সবচেয়ে সক্রিয়। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা তাদের এআই বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়।তাদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; ১০০টিরও কম চীনা অক্ষরে তারা তাদের পছন্দের অনুপ্রবেশ কৌশলগুলো বর্ণনা করেছিল। গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ, তাদের এজেন্টরা ১ হাজার ২০০টিরও বেশি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে।সফলভাবে অনুপ্রবেশের জন্য সাধারণত প্রায় ২৩ ঘণ্টা ধরে দুর্বলতা খোঁজার কাজ চালাতে হয়েছে। ফাগারল্যান্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই অভিযানে সম্ভবত চীনের ডিপসিক এবং অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোডের’ মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি সফল হ্যাকিংয়ের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ ডলার।প্রায় তিন দশক ধরে সাইবার নিরাপত্তা খাতে কাজ করা ফাগারল্যান্ড জানান, ভুক্তভোগীদের সিস্টেমে অনুপ্রবেশের জন্য এজেন্টরা যেসব কৌশল ব্যবহার করেছে, তা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। একটি ঘটনায়, বড় একটি কোম্পানির পাবলিক-ফেসিং অ্যাপ্লিকেশনে কোনো দুর্বলতা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর, এআই এজেন্টগুলো ডিজিটাল রেকর্ড ঘেঁটে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খুঁজে বের করে। এরপর তারা একটি পাবলিক-ফেসিং কন্ট্রোল প্যানেল শনাক্ত করে এবং সেটির ডেটা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিতে একটি সূক্ষ্ম দুর্বলতা খুঁজে পায়। দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রচেষ্টার পর, তারা সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সার্ভারকে বিভ্রান্ত করে ক্ষতিকারক কমান্ড কার্যকর করাতে সক্ষম হয়।ফাগারল্যান্ড বলেন, ‘এ ধরনের সমাধান বের করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি কোনো সাধারণ শৌখিন হ্যাকারের কাজ হতে পারে না।’কেয়ার্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মটি হলো ‘এক ধরনের উদ্ভাবনী মাল্টি-এজেন্ট আর্কিটেকচার, যা হ্যাকিং আক্রমণের জন্য তৈরি করা হয়নি। যদি এটি ক্ষতিকারক হ্যাকিং আক্রমণ চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।’তদারকির প্রয়োজন নেইএজেন্টিক এআই সিস্টেমগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্বলতা খুঁজে বের করা, অনুপ্রবেশ ঘটানো এবং তথ্য চুরি করার সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় বড় এআই কোম্পানিগুলোর অসাবধানতায় মুক্ত হয়ে যাওয়া কিছু ‘উচ্ছৃঙ্খল’ এআই এজেন্ট কম্পিউটার ল্যাবের গণ্ডি পেরিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেছে এবং অননুমোদিত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বেশ কিছু আলোচিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে এআই ব্যবহারকারী সাইবার অপরাধীদের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।সাইবার অপরাধীদের গোপন জগতে এআই এজেন্টগুলো ক্রমেই একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠছে। আগস্ট মাসে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান ‘গ্যামবিট সিকিউরিটি’ দেখতে পায়, রুশভাষী চাঁদাবাজরা স্পেসএক্সের ‘কার্সার এআই’ টুল ব্যবহার করে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে গ্যামবিট এআই এজেন্ট-চালিত এমন এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ২৫টি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। অন্তত ৬ লাখ ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি হয়। গত সপ্তাহে সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ‘বিটসাইট’ জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীদের বিভিন্ন ফোরামে স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনার হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।ফাগারল্যান্ড জানান, তিনি আগে ভেবেছিলেন যে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত এআই এজেন্টগুলোর অন্তত কিছুটা তদারকির প্রয়োজন হবে। তবে এখন এটি স্পষ্ট যে, প্রযুক্তিটি সেই পর্যায় অনেক আগেই অতিক্রম করে গেছে।তিনি বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।’ সূত্র: রয়টার্স