গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩৩৩ জন।রোববার (৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে তথ্যটি জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে মারা গেছে ৩৮ জন। এছাড়া অক্টোবরে ১৭৪ জন, সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর প্রাণহানি ঘটেছে।এতে বলা হয়, শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার ৩৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন।উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে এক হাজার ১২৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭২ জন, খুলনায় ৩৩২ জন, বরিশালে ২৩১ জন, রাজশাহীতে ২১৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৪ জন, রংপুরে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের যেসব ঘটনা ঘটছে এগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আকতার হোসেন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুনের প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গ-সংগঠনের সদস্যরা রয়েছে।পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটা স্পষ্ট যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাশকতা ও আতঙ্ক ছড়াতে এসব কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিএমপির অপারেশনাল কার্যক্রম ও পুলিশ মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আতঙ্ক দূর করতে ডিএমপির মোবাইল পার্টি ও পিকেট ডিউটির পাশাপাশি কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।ককটেল তৈরির উপাদানগুলো কোথায় বানানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আকতার হোসেন বলেন, এর আগেও ককটেল তৈরির উপাদান ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নাশকতার উদ্দেশ্যে পেট্রোল পাম্প বা অন্য কোথাও থেকে দাহ্য পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা মনিটর করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে কারা নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ করছে, তাদের শনাক্ত করতে ডিএমপির অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভাটারা থানার কিছুটা সামনে বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে ভাটারা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে হঠাৎ আগুন দেখা যায়। ওই সময় মুহূর্তেই আগুন বাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।এর আগে, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে মিরপুরের পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে এবং মধ্যরাতের দিকে মহাখালীতে পার্কিং করা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওইদিন রাত ১০টার দিকে পল্লবী মেট্রো স্টেশন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে হঠাৎ আগুন দেখা যায়। ওই সময় দ্রুত চালক ও হেলপার বাসের সিটগুলো সরিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে বাসটি নিরাপদে সরিয়ে নেয়।অন্যদিকে শনিবার রাত ১টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের পেছনের দিকে পার্কিং করা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে পুরো বাসটি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়াও একই দিন রাজধানীর বনানী ও মহাখালী এলাকার সেতু ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার জিতলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট। ব্যক্তিগত অর্জনের দিনে অবশ্য জয় পায়নি তার দল ইন্টার মায়ামি।রোববার (৮ নভেম্বর) এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের শেষ দিনে শার্লট এফসির বিপক্ষে নেমেছিল মায়ামি। ঘরের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-৩ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি।তবু ২৬ গোল নিয়ে মৌসুম শেষ করায় গোল্ডেন বুট উঠেছে তার হাতেই। মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন এফসি ডালাসের পেতার মুসা। ২২ গোল করে দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি। ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ ২১ গোল নিয়ে তৃতীয়, আর ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের ব্রায়ান হোয়াইটের গোল ২০টি।গত মৌসুমে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। এক মৌসুমে সেটি ছিল এমএলএস ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। এবার গোলের সংখ্যা কিছুটা কমলেও লিগের অন্যতম ধারাবাহিক গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।মায়ামির আক্রমণভাগেও মেসির অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। নিয়মিত মৌসুমে ৮০ গোল করে লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে দলটি। এর মধ্যে মেসির একার গোল ২৬টি। দলের মোট গোলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছে তার পা থেকে।গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও পিছিয়ে ছিলেন না ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মৌসুমে মেসির অ্যাসিস্ট ১৭টি, যা লিগের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা পেপ বিয়েলের চেয়ে মাত্র একটি কম। মাঠে ২ হাজার ৬৬৪ মিনিট খেলেই এই অবদান রেখেছেন তিনি।গোলের সুযোগ তৈরি ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও সবার ওপরে ছিলেন মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ১৮৩টি শট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মিলান ইলোস্কির শট ১২২টি। লক্ষ্যে রাখা শটের সংখ্যাও মেসির সবচেয়ে বেশি ৭৬টি। এই তালিকায় তার পরেই থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গার শট ৫১টি।আগস্টে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে একাই চার গোল করেছিলেন মেসি। সেটিই ছিল মৌসুমে তার সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।এবার মায়ামির সামনে এমএলএস কাপ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ২০১১ ও ২০১২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর আর কোনো দল টানা দুই মৌসুমে এই শিরোপা জিততে পারেনি। ইস্টার্ন কনফারেন্সে রেকর্ড গড়া ন্যাশভিলের পেছনে দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে উঠেছে মায়ামি। সেরা সাতের মধ্যে থাকা দলগুলোর লড়াইয়ে প্রথম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ সপ্তম বাছাই কলম্বাস ক্রু।ব্যক্তিগতভাবে মেসির সামনে রয়েছে আরও একটি বড় অর্জনের হাতছানি। টানা তৃতীয়বারের মতো এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় বা এমভিপি হওয়ার দৌড়ে আছেন তিনি। গত মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি।এর আগে কেবল প্রেকিই দুবার এমভিপি হয়েছিলেন ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে। এবার গোল্ডেন বুট জয় মেসির দাবিকে আরও শক্তিশালী করল। তবে এমভিপি নির্বাচনে শুধু গোল নয়, গণমাধ্যমকর্মী, খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তাদের ভোটও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সাফল্যের নতুন পালক যুক্ত হলো ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহির মুকুটে। ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এ বিজয়ী হয়েছেন তিনি। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার নাম ঘোষণা করা হয়।এ সময় মঞ্চে ছিল টানটান উত্তেজনা। নাম ঘোষণা হতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাহি। এরপর গত বছরের ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন। পরে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের একসঙ্গে মঞ্চে হাঁটার সময় করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।অনুষ্ঠানে মাহির পরনে ছিল শ্যাম্পেন-গোল্ড রঙের ঝলমলে মারমেইড গাউন। অফ-শোল্ডার পোশাকটিতে ছিল ভারী পাথরের কাজ। অন্যদিকে বিদায়ী বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলার পরনে ছিল হালকা নীল ও সিলভার রঙের গাউন, যার কাঁধের নকশা ছিল পাখার মতো। বিজয়ী ঘোষণার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জাও।আয়োজকরা জানান, ১১ নভেম্বর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন সামিরা খান মাহি।ছোট পর্দার দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সামিরা খান মাহি। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সাবলীল উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাস তাকে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এবার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ে সেরার স্বীকৃতি পেলেন তিনি।তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহি বলেন, বাবা-মা আমাকে বলেছে ‘যাও, বিশ্ব জয় করে আসো।’ সবার কাছে দোয়া চাই, যেন আমি বিশ্ব জয় করে ফিরতে পারি। বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। আমি জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে।২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তানজিয়া জামান মিথিলা বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন। মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো প্লেসমেন্ট অর্জন। পাশাপাশি পিপলস চয়েস বিভাগেও শীর্ষস্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন তিনি। মিথিলার পর এবার ‘মিস ইউনিভার্স’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মাহি।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিশুদের তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। মূলত সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে এই ঋণ।শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের বয়সোপযোগী একটি সহজ পাঠ বুঝতে সক্ষম নয়; যেখানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এ বিষয়ে বলেন, একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মীবাহিনী গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। নতুন এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে ধরে রাখতে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে আরও ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি করবে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি শিক্ষা কাঠামো। সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদরাসা মিলে এই স্তরে ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করে। কর্মসূচির অধীনে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান সামগ্রী, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানভিত্তিক প্যাকেজ চালু করা হবে। এর পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার তাশমিনা রহমান জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষেধকমূলক শিখন সুবিধা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে জেলাগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সেগুলোতে বাড়তি নজর থাকবে। সেই সাথে কর্মসূচিটি শিক্ষক ও স্কুল নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।নতুন এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত বিষয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য চিকিৎসাতুল্য প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, যা শিশুদের স্কুলে প্রবেশের শুরুতেই পড়ালেখায় শক্ত ভিত্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।আশা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির সুবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি নতুন এবং তুলনামূলক উন্নত বেতনযুক্ত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), যা সাধারণত নিম্ন-আয়ের দেশগুলোকে সহায়তায় কাজ করে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
পবিত্র ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেকের জন্য বড় বাধা। সেই বাধা দূর করতে বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। দেশটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ পালনের প্যাকেজ জেতার সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।প্রতিদিন কুইজ ও লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন বিজয়ীরা। বিশেষ আকর্ষণ হলো, প্রত্যেক বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য কিংবা পছন্দের অন্য একজনকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিতে পারবেন।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রতিযোগিতা চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পুরো নভেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ওমরাহ পালনের নির্ধারিত যাবতীয় খরচ বহন করবে সৌদি সরকার। প্যাকেজের আওতায় থাকছে নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, ওমরাহ ভিসা প্রক্রিয়াকরণ এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ১০ রাত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা।এ ছাড়া প্রতিদিন নির্বাচিত বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য অথবা পছন্দের অন্য একজনকে বিনা খরচে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ প্রতিদিন একজন বিজয়ীর পাশাপাশি তার মনোনীত আরেকজনও ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন।মূল ওমরাহ প্যাকেজের পাশাপাশি প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে আরও ১০ জনকে দেওয়া হবে জমজমের পানির বিশেষ কার্ড। প্রতিটি কার্ডে থাকবে ২০টি কুপন। এর মধ্যে ১০টি নিজের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ১০টি অন্যদের উপহার দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।যেভাবে অংশ নেবেন প্রতিযোগিতায়প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলমানরা অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য প্রথমে স্মার্টফোনে নুসুকের অফিশিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।নিবন্ধনের সময় নাম, ইমেইল ঠিকানা, দেশ ও পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর ইমেইলে পাঠানো এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) কোডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে হবে।নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অ্যাপের ‘গেম সেন্টার’ অথবা ‘নুসুক চ্যালেঞ্জ’ বিভাগে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে। সেখানে ইসলামিক ইতিহাস, পবিত্র কোরআন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন এবং ওমরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তরদাতাদের নাম প্রতিদিনের লটারির তালিকায় যুক্ত হবে।এ ছাড়া ইনভাইট কোডের মাধ্যমে বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানালে অতিরিক্ত ডিজিটাল চাবি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব চাবি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের শুধু নুসুকের অফিশিয়াল অ্যাপ ও যাচাইকৃত মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন বা কুইজে অংশ নিলেই ওমরাহ প্যাকেজ নিশ্চিত হবে না। প্রতিদিনের বিজয়ী নির্বাচন করা হবে লটারির মাধ্যমে। তাই অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের ফাঁকে চাঙা থাকতে অনেকেই ভরসা করেন এনার্জি ড্রিংকের ওপর। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব পানীয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে সাময়িকভাবে শরীর চাঙা করা এই পানীয়ই ডেকে আনতে পারে হৃদযন্ত্রের বড় বিপদ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক উপাদানযুক্ত সম্পূরক গ্রহণের সঙ্গে তরুণদের গুরুতর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এসব পণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় ১১ গুণ এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সাড়ে ৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগের গবেষকেরা ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে জমা পড়া ২৮ হাজার ৩৪৫টি অভিযোগ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৪টি অভিযোগ ছিল ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক সম্পূরক পণ্য নিয়ে। বাকি অভিযোগগুলো ছিল উদ্দীপক উপাদানবিহীন (Stimulus-free) পণ্য সম্পর্কে।গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ পণ্যের তুলনায় এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক সম্পূরক গ্রহণের পর হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রায় ১১ গুণ বেশি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ সাড়ে ৪ গুণ এবং হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ও বুক ধড়ফড়ের অভিযোগ প্রায় চার গুণ বেশি পাওয়া গেছে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা–সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর প্রায় ৪৫ শতাংশই ছিল ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের।গবেষণার প্রধান গবেষক সাই সামায়ামানথুলা বলেন, এসব পানীয়কে সাধারণ কোমল পানীয়ের মতো করেই বাজারজাত করা হয়। ফলে অনেকেই এগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত মনে করেন। তবে নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক উপাদানযুক্ত সম্পূরক গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রবেশ করতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াতে পারে।কেন বাড়ছে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি?এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এছাড়া এসব পানীয়তে গুয়ারানা, টরিন, ইয়েরবা মাতে, থিওব্রোমিনসহ বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। এগুলো ক্যাফেইনের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত উদ্দীপক উপাদান গ্রহণের ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কিছু এনার্জি ড্রিংকে প্রতি আউন্সে সাধারণ কফির তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে একাধিক পানীয় গ্রহণ করলে অজান্তেই শরীরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন জমা হতে পারে।দিনে কতটুকু ক্যাফেইন নিরাপদ?গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। পরিমাণটি প্রস্তুতপ্রণালির ওপর নির্ভর করে প্রায় চার থেকে পাঁচ কাপ সাধারণ কফির সমান।তবে একটি এনার্জি ড্রিংকের কৌটায় ৮০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। এর সঙ্গে চা, কফি কিংবা উদ্দীপক উপাদানযুক্ত অন্যান্য সম্পূরক গ্রহণ করলে দৈনিক নিরাপদ মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে এ ধরনের পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত শরীরচর্চার সময় কিংবা মদ্যপানের সঙ্গে এনার্জি ড্রিংক গ্রহণও বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেনঅতিরিক্ত ক্যাফেইন ও উদ্দীপক উপাদান গ্রহণের ফলে কয়েকটি শারীরিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—বুক ধড়ফড় করা।বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি।মাথা হালকা লাগা বা ঝিমঝিম করা।হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া।বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।এনার্জি ড্রিংক গ্রহণে সতর্কতা জরুরিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কতটুকু ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। শুধু এনার্জি ড্রিংক নয়, চা, কফি, শরীরচর্চার আগে খাওয়া পানীয় এবং বিভিন্ন সম্পূরক পণ্যের ক্যাফেইনের পরিমাণও হিসাব করতে হবে।পণ্যের মোড়কে থাকা উপাদানের তালিকা ভালোভাবে পড়তে হবে। বিশেষ করে গুয়ারানা ও সিনেফ্রিনের মতো অতিরিক্ত উদ্দীপক উপাদান রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা প্রাথমিক পর্যায়ের। এখানে পাওয়া তথ্য এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক তুলে ধরলেও, এসব পানীয় সরাসরি হৃদরোগের কারণ—এমন প্রমাণ দেয় না। কারণ, গবেষণাটি স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া যারা এসব পানীয় গ্রহণ করেও কোনো সমস্যায় পড়েননি, তাদের সংখ্যা জানা যায়নি।তাই প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—সাময়িকভাবে চাঙা হওয়ার জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে স্কুলগুলোর বিতর্ক চলাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ফিচার চালু করে সমালোচনার মুখে পড়ে গুগল। এরপরই ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাদের এআই টুলগুলো ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আমেরিকান স্কুলগুলোতে প্রযুক্তি খাতের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে এই সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের। দেশটির বিভিন্ন স্কুলের ক্লাসরুমে জিমেইল, ডকস এবং ক্লাসরুম প্ল্যাটফর্মের মতো তাদের শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপগুলো ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কম দামের ক্রোমবুক ল্যাপটপগুলোই মার্কিন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দিয়ে থাকে।মঙ্গলবার একটি ব্লগ পোস্টে গুগলের ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে এগুলো না চালু করা পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণির (কে-১২) শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টগুলোতে জেমিনি, জেমিনি নোটবুক, ক্লাসরুমে জেমিনি এবং সার্চ- এই টুলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে।গুগল এএফপিকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী চালু করা হবে, তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।এই পরিবর্তনের ফলে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের এআই সুবিধা ছাড়া গুগল সার্চ ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারবে না।গুগলের শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে জানান, ‘সার্চ এবং এআই ওতপ্রোতভাবে জড়িত’, কারণ কোম্পানির সার্চ ইঞ্জিনের ভেতরেই এখন এআই ফিচারগুলো যুক্ত রয়েছে।তিনি বলেন, কোনো স্কুল যদি এআই নিষিদ্ধ করে, তবে শিক্ষার্থীরা ‘সার্চ ব্যবহারের সুযোগ পাবে না এবং তারা স্কুলের তরফ থেকে একটি বার্তা দেখতে পাবে যাতে বলা থাকবে যে সার্চ পাওয়া যাচ্ছে না।’নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ গুগলকে অভিযুক্ত করে লিখেছেন, তারা ‘আমাদের সরকারি স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোর করে চাপিয়ে দিতে তাদের একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের থাকা উচিত নয়।’গত মাসে সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং জোশ হওলির কোম্পানির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করে থাকে। স্কুল ডিভাইসগুলোতে কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফিচারগুলোকে ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু রাখা হয়েছিল, চিঠিতে মূলত সে প্রশ্নই তোলা হয়েছিল।গত আগস্টে গুগল সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ক্লাসরুমে জেমিনি চ্যাটবট উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।সে সময় শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের শ্রেণি ও অ্যাসাইনমেন্ট-সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক প্রম্পট দেখানো হতো। এর মাধ্যমে তারা নির্দেশিত সহায়তা বা স্টাডি গাইড পেত। পাশাপাশি কোর্সের উপকরণ থেকে তৈরি অনুশীলন কুইজ ও ফ্ল্যাশকার্ডও পেত।যে সকল স্কুল ইতোপূর্বেই জেমিনি চালু করেছিল, সেগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ছিল।স্কুল ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলগুলোর ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনার কথা গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেস- উভয় শহরই ঘোষণা করেছিল।লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমরা গুগলের এই ঘোষণা এবং স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছি।’মুখপাত্র জানান, ডিস্ট্রিক্ট বিশ্বাস করে যে এআই যদি সতর্কতার সঙ্গে এবং স্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করে চালু করা হয়, তবে তা শিক্ষাদান ও শিখন প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি এমন নীতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রযুক্তি যেন শিক্ষকদের জায়গা দখল না করে বরং তাদের সহায়তা করে এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষা করে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস (এনওয়াইসিপিএস) এই নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুগলের কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন। তবে এনওয়াইসিপিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা ক্রোমবুকগুলোতে জেমিনি চ্যাটবট এবং এআই মোড ইতোমধ্যেই বন্ধ করা আছে।মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য গুগল সার্চ ফলাফলে যে এআই ওভারভিউ দেখানো হয়, তা নিষ্ক্রিয় করার জন্যও এনওয়াইসিপিএস গুগলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।’এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার গুগল জানায়, এই পরিবর্তনগুলো স্কুলগুলোকে ‘কম নয়, বরং আরও বেশি পছন্দ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’গুগল বলেছে, ‘আমরা জানি যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় শর্টকাট নেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করছে কি না তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে, আর স্কুলগুলো আমাদের আগেই জানিয়েছে যে তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ চায়।’