নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে কাঠেরপুল এলাকার কয়েকটি কারখানা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকেরা শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। আন্দোলনে আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিটের শ্রমিকেরা অংশ নেন।শ্রমিকরা জানান, দুপুরের খাবারের বিরতির পর আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। পরে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে অন্যান্য শ্রমিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সেখানে এসে জড়ো হন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের মূল সড়কে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকেরা লিংক রোডে উঠে পড়েন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং যান চলাচল সচল রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক। সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকার পার পেতে পারে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তার দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, এটি সরকারের গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতা। সরকার বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি ব্যবহার করছে। অথচ যারা দেশের শত্রু, যারা জনগণকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকারপ্রধানকে এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজই চিঠি পাঠাচ্ছি। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অন্য রায়গুলোতে যাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সে রায় বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি দেব।শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে যে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও আসামির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলি করার আদেশ প্রদান করেছেন। এই মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। অনতিবিলম্বে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে দণ্ডিত পলাতক আসামি যেকোন সময় তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তকরন সংক্রান্ত রায় ও আদেশ নিস্ফল করে দিতে পারে।এমতাবস্থায়, অনতিবিলম্বে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রনয়ণ করে, তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশমতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আপনাকে সবিশেষ অনুরোধ করা হলো।শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তচব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।কাদেরসহ পাঁচ আসামির সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সকল আসামী পলাতক রয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া এই রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্যকোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।হানিফসহ চার আসামির সম্পদের অর্ধাংশ বাজেয়াপ্তচব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই মামলার অপর তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া এই রায়ে দণ্ডিত সকল আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যকোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যাক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পথ ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তার বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। প্রথমবারের মতো পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ১৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। আগামী নভেম্বরে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে কোচ ফিলিপে রামোস ঘোষিত ২৩ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তিনি।পর্তুগালে ‘ক্রিস্তিয়ানিনহো’ নামে পরিচিত রোনালদো জুনিয়র বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের যুব দলে খেলছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে সাত ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন তিনি।বয়সভিত্তিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পেয়েছেন রোনালদো-পুত্র। ২০২৫ সালের মে মাসে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তার। এরপর দেশটির বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে ১৩ ম্যাচ খেলে করেছেন পাঁচ গোল।অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে চার ম্যাচে দুটি গোল করার পর অনূর্ধ্ব-১৬ দলে সুযোগ পান ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। সেখানেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। এই বয়সভিত্তিক দলের হয়ে নয় ম্যাচে করেছেন তিন গোল। এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তরুণ এই ফুটবলার।পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার তুলনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বাবার পরিচয়ের বাইরে নিজের যোগ্যতায় আলাদা অবস্থান তৈরি করাই এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বয়সভিত্তিক ফুটবলে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।আল-নাসরের যুব দল থেকে পর্তুগালের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে রোনালদো জুনিয়রের এই অগ্রযাত্রায় নজর রাখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে বাবা-ছেলেকে একই মাঠে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ রয়েছে।এদিকে আগামী শুক্রবার পর্তুগালের জাতীয় দলের নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করার কথা রয়েছে। সেখানে আল-নাসরের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জায়গা পান কি না, সেটিও জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকরা।
নামটা যখন শাহরুখ খান, তখন চমকপ্রদ কিছু ঘটবে, এটাই যেন স্বাভাবিক। তিন বছর পর নতুন সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে আসছেন এই ডিসেম্বরে। বিশ্বজুড়ে তার ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। সেই আগ্রহের সুবাদে মুক্তির আগেই বিপুল অর্থ আয় করে নিচ্ছে সিনেমাটি।সিনেমা বাণিজ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি থেকে ‘কিং’ আয় করে নিয়েছে ৬৬৫ কোটি রুপি! এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তির স্বত্ব বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ১৭৫ কোটি রুপিতে।ভারতের বাইরে সিনেমাটির পরিবেশনার স্বত্ব কিনেছে ফার্স ফিল্মস। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ কোটি রুপির ন্যূনতম গ্যারান্টি (মিনিমাম গ্যারান্টি) দিয়েছে। কোনো ভারতীয় সিনেমার বিদেশি পরিবেশনা স্বত্বের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ অঙ্কের ন্যূনতম গ্যারান্টি বলে শোনা যাচ্ছে। এর আগে কোনো চুক্তির অঙ্ক ১০০ কোটি রুপিও ছাড়ায়নি।অন্যদিকে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সিনেমাটির প্রেক্ষাগৃহে পরিবেশনার স্বত্ব ২৫০ কোটি রুপিতে কিনেছে পেন মারুধর। পিঙ্কভিলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহের বাইরের স্বত্ব বিক্রি থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে। নেটফ্লিক্স ১৫০ কোটি রুপিতে সিনেমাটির ওটিটি স্বত্ব কিনেছে বলে খবর। এ ছাড়া স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি হয়েছে ২৫ কোটি এবং সংগীতস্বত্ব ৬৫ কোটি রুপিতে।তবে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তিতে রয়েছে একটি বিশেষ শর্ত। সিনেমাটির প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসার ওপর নির্ভর করে ওটিটি স্বত্বের চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ, প্রেক্ষাগৃহে ‘কিং’-এর পারফরম্যান্স অনুযায়ী এই চুক্তির অঙ্ক বাড়তে বা কমতে পারে। সব হিসাব ঠিক থাকলে মুক্তির আগেই সিনেমাটির মোট ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৬৬৫ কোটি রুপিতে।এদিকে সিনেমাটির নির্মাণব্যয়ও বেড়েছে বেশ। শুরুতে সিনেমাটির বাজেট ছিল ২০০ কোটি রুপির মতো। কিন্তু পরিকল্পনায় নানা পরিবর্তনের ফলে এখন এর ব্যয় প্রায় ৪০০ কোটি রুপি। শাহরুখের পারিশ্রমিক যুক্ত করলে তা পৌঁছাবে ৫০০ কোটি রুপিতে। বলাই বাহুল্য, সিনেমাটিকে সফল হতে হলে বিপুল অংকের আয় করতে হবে। সেই আভাস যেন মুক্তির আগেই দিচ্ছে ‘কিং’।উল্লেখ্য, এর আগে সিদ্ধার্থ আনন্দের নির্মাণে ‘পাঠান’ করেছেন শাহরুখ। সেটিও হয়েছিল ব্লকবাস্টার। এবার ‘কিং’-এ শাহরুখের সঙ্গে আছেন তার কন্যা সুহানা খানও। আছেন অভিনেতার লাকি চার্ম দীপিকা পাড়ুকোন। এছাড়াও অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, কারিনা কাপুর, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি, জয়দীপ আহলাওয়াত, রাঘব জুয়াল, সৌরভ শুক্ল, ববি দেওলসহ অনেক তারকা। ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক আভাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সোমবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলেছে, চলমান সংঘাতের অবসানে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টায় সম্মতি জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাবকে সরাসরি যুক্ত করেছে তেহরান।এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক সমাধান প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।এর আগে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও আদেশ দেননি।অন্যদিকে, বিশ্ব বাজারে তেলের দামের এমন ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সাতটি সদস্য দেশ রোববার বৈঠকে বসেছিল। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বর মাসেও তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে তা আগের অবস্থাতেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দেশগুলো। এর মাধ্যমে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আরও এক মাসের জন্য বাড়ানো হয়।সূত্র: এএফপি, এক্সিওস।
২ ঘন্টা আগে
দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে অনেকেই নিয়মিত চশমা ব্যবহার করেন। তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, চশমা পরে নামাজ আদায় করা যাবে কি না কিংবা সেজদার সময় চশমা পরা থাকলে নামাজের কোনো সমস্যা হবে কি না।এ বিষয়ে কালবেলার পাঠকদের জন্য শরিয়তের বিধান জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী।তিনি বলেন, চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেজদার সময় চশমার কারণে কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হয় কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।চশমা পরে নামাজ আদায়ের বিধান কীমশা-মাছি পড়লে কি খাবার অপবিত্র হয়ে যায়?কেননা, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এ সময় তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতিও ইশারা করেন। দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ।’ (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০)সুতরাং, চশমা পরে সেজদা করলে যদি কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখা যায়, তাহলে চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু চশমার কারণে নাক জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হলে তা খুলে নামাজ আদায় করতে হবে। কেননা, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিনা ওজরে নাক জমিনে না রেখে সেজদা করা মাকরুহে তাহরিমি। (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২৮, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন: ১৩/১৮৬)
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সরঞ্জাম মজুতের পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে নাগরিকদের নির্দেশনা দিয়েছে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নিতে বলছে বিভিন্ন দেশের সরকার। কোথাও তিন দিন, কোথাও এক সপ্তাহ, আবার কোথাও ১০ দিনের প্রয়োজনীয় খাবার-পানি ও জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য নেওয়া হয়েছে ৯০ দিনের প্রস্তুতির উদ্যোগও। এসব পদক্ষেপ কি বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত, নাকি নিয়মিত দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ?বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রস্তুতির পেছনে রয়েছে একাধিক উদ্বেগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বিবেচনায় নিচ্ছে দেশগুলো।তবে এসব নির্দেশনাকে আসন্ন কোনো যুদ্ধ বা বড় বিপর্যয়ের নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেক দেশেই নাগরিকদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার কর্মসূচি দীর্ঘদিনের।তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে যুক্তরাজ্যযুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামে একটি প্রচারাভিযান চালাচ্ছে নাগরিকেরা যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারেন।বিজ্ঞাপনএ জন্য একজনের প্রতিদিনের জন্য তিন লিটার খাবার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক এবং ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা, ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারলে উদ্ধার ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপদে থাকা মানুষদের দ্রুত সহায়তা দিতে পারবে।সরকারের এই প্রচারের পর দেশটির কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি বেড়েছে। বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।গৃহস্থালির ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।অন্যদিকে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগের মাসের একই সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের তুলনা করেছে।জরুরি সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানও চাহিদা বাড়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। এগুলো দিয়ে গোটা যুক্তরাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বা খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।কোথাও তিন দিন, কোথাও ১০ দিনের প্রস্তুতিশুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের এ ধরনের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পাশাপাশি কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ রয়েছে।সুইডেন ও নরওয়েতে প্রায় এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ভারতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিলেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট ‘রেডি ডট গভ’-এও কয়েক দিন চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা রয়েছে।তবে দেশগুলোর প্রস্তুতির কারণ এক নয়। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলাদা প্রস্তুতির নির্দেশনা রয়েছে।এ ছাড়া এসব কর্মসূচির সবই সাম্প্রতিক নয়। অনেক দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ মোকাবিলায় নাগরিকদের প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ চালু রয়েছে।যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ভাবাচ্ছে ইউরোপকেইউরোপের দেশগুলোতে জরুরি প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে।ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।ইউরোপীয় কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।সুইডেনের সরকারি নির্দেশিকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।তবে সুইডেনে যুদ্ধকালীন নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা একেবারে নতুন নয়। দেশটিতে এ ধরনের নির্দেশিকা প্রকাশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্করণে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে তিন মাসের প্রস্তুতিনাগরিকদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরে থেকে সহায়তা না পেলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে এই ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়। এটি মূলত সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ।তাহলে কি বড় কোনো বিপর্যয় আসছে?বিভিন্ন দেশের এসব উদ্যোগের মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় রয়েছে—জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরের সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিজেদের প্রয়োজন সামাল দিতে পারে।আধুনিক জীবনযাত্রায় বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে অন্য পরিষেবাগুলোও ব্যাহত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামের সীমিত মজুত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পারে।ব্রিটিশ সরকারও নাগরিকদের একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার বা পানি কিনে রাখার পরামর্শ দেয়নি। বরং ঘরে আগে থেকেই থাকা সামগ্রী পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে জরুরি জিনিসপত্র যোগ করার কথা বলেছে।পাশাপাশি প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর লিখে রাখা এবং যাদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। যুদ্ধ, খাদ্যসংকট কিংবা বড় কোনো বিপর্যয় আসন্ন—এসব নির্দেশনা তেমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দিচ্ছে না। তবে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগ, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতির গুরুত্ব যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও গেমিংয়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন কম্পিউটার ও ল্যাপটপ দেশের বাজারে এনেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট। স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারে আসা এসব ডিভাইসে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর, গ্রাফিকস কার্ড ও এআই মডেল পরিচালনার সুবিধা।নতুন পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে গিগাবাইট এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটার, এআই টপ অ্যাটম এবং গিগাবাইট ঈগল ৯এলজে ল্যাপটপ। পণ্যগুলোতে এআইভিত্তিক কাজের পাশাপাশি গেমিং, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।গিগাবাইট এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটারে রয়েছে ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৯ ২৮৫কে প্রসেসর, ১২৮ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম এবং এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৯০ গ্রাফিকস কার্ড। এতে ২ টেরাবাইটের অরাস জেন৪ এসএসডি, ৩২০ জিবির এআই টপ ১০০ই স্টোরেজ, ১৬০০ ওয়াটের ৮০ প্লাস প্লাটিনাম পাওয়ার সাপ্লাই এবং ৩৬০ মিলিমিটারের অরাস লিকুইড কুলার রয়েছে। কম্পিউটারটির দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা।অন্যদিকে, গিগাবাইট এআই টপ অ্যাটম কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়েছে এনভিডিয়ার জিবি১০ গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল সুপারচিপ। এতে রয়েছে ১২৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ১ পেটাফ্লপ এফপি৪ পারফরম্যান্স। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ২০০ বিলিয়ন প্যারামিটারের এআই মডেল পরিচালনায় সক্ষম। কম্পিউটারটির দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা।এ ছাড়া গিগাবাইট ঈগল ৯এলজে ল্যাপটপে রয়েছে এএমডি রাইজেন ৫ ৭৫৩৫এইচএস প্রসেসর, ৮ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম, ৫১২ জিবি পিসিআই জেন৪ এসএসডি এবং ৬ জিবি মেমোরির এনভিডিয়া আরটিএক্স ৩০৫০ গ্রাফিকস কার্ড। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ব্যাকলিট কিবোর্ড ও টাইপ-সি পোর্ট। এর দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান বলেন, নতুন ডিভাইসগুলোতে কম্পিউটারেই এআইয়ের কাজ করার সুবিধা থাকায় ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইভিত্তিক কাজ, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে।প্রতিষ্ঠানটির প্রচারমূলক তথ্য অনুযায়ী, এআই টপ সিরিজের ডিভাইসগুলোতে এআইভিত্তিক কাজের উপযোগী হার্ডওয়্যার, সহজ ব্যবস্থাপনা, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়ানোর সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ডিভাইসগুলো দেশের বিভিন্ন আইটি শপ ও স্মার্ট টেকনোলজিসের অনুমোদিত শোরুমে পাওয়া যাচ্ছে।