জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চারটি প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত রেখে সেগুলো আরও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্থগিত হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প।বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।স্থগিত হওয়া অন্য দুটি প্রকল্প হলো, প্রবৃদ্ধি-লোকাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (এলইডি) ইন সিলেক্টেড মিউনিসিপ্যালিটিজ প্রকল্প এবং মেট্রো ঢাকা: ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প। প্রকল্পগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত ২৫ অক্টোবর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের কারণে একনেকের এ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছিল।একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয় এবং অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় প্রকল্প। এছাড়া, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গ্যাসকূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট, বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন প্রকল্পের প্রথম পর্ব।এছাড়া, ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ, জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ এবং গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।একনেকে অবহিত করা হয়েছে যেসব প্রকল্প৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের কয়েকটি প্রকল্প অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন দিয়েছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রকল্প সম্পর্কে একনেক বৈঠকে অবহিত করা হয়েছে।এ ধরনের প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, দেশের শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প।
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যা হয়েছে কোথাও যদি হয়ে থাকে, এটাকে আন্দোলন নাকি রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নাকি সহিংসতা, এটা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের দাবি ছিল আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকার যথেষ্ট আগেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছে। শ্রমিকপক্ষ নাম দেওয়ার পরদিনই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান সবার বক্তব্য শুনবেন। অতীতে পাঁচ বছর পরপর মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে হারে বৃদ্ধি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করে যৌক্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রমবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব। সরকারের উদ্দেশ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।’চলমান সহিংসতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যে সমস্ত কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তার দাবি কী? কোনো দাবি তো নেই। তারা কিছু এখানে শ্রমিক নয়, সেরকম ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নামে তারা অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা করছে, অগ্নিসংযোগ করছে, কোথাও কোথাও সহিংসতা সৃষ্টি করছে।’তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এমন কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মাফিয়া শক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার কথা শুনতে প্রস্তুত। এ জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। তারাও স্বীকার করেছেন, বর্তমান সহিংসতা শ্রমিকদের আন্দোলন নয়। বরং কেউ কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ নিচ্ছেন।’পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর অনেক সদস্য হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তারা যথাসম্ভব শ্রমিকদের গায়ে হাত দেননি। কারণ, শ্রমিকদের কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে তারা জানেন।শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। তাই এখন আন্দোলনের প্রশ্ন আসে না।’তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ডকে নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হলে সেটি সবচেয়ে ভালো হবে।সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি আটক হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই। আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও একটি বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পথে এই কীর্তি গড়েন কোহলি।বুধবার অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামে ভারত। স্বাগতিকদের দেওয়া ১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন কোহলি। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা।এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে রান তাড়ার দ্বিতীয় ইনিংসে কোহলির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৪১ রান। এর আগে রেকর্ডটি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের দখলে। রান তাড়ায় শচীনের সংগ্রহ ৮ হাজার ৭২০ রান। অর্থাৎ ২১ রান এগিয়ে থেকে নতুন ইতিহাস গড়লেন কোহলি।এই তালিকায় শচীন ও কোহলি ছাড়া আর কোনো ব্যাটার এখন পর্যন্ত ৭ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। ৬ হাজার ৮০১ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের আরেক তারকা রোহিত শর্মা।কোহলির রেকর্ড গড়ার দিনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সহজ জয় পেয়েছে ভারত। ডি/এল পদ্ধতিতে ৩২ ওভারে ১৪৩ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। ৫৬ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শুভমান গিলের দল। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।কোহলির পাশাপাশি ব্যাট হাতে অবদান রাখেন অধিনায়ক শুভমান গিল। তিনি করেন ৩৭ রান। শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। তবে রোহিত শর্মা ৬ বল খেলে কোনো রান না করেই জ্যাকব ডাফির বলে সাজঘরে ফেরেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ডাফি ৪৯ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট।এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপে ৪০.২ ওভারে মাত্র ১৮৫ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং ৭০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া আনশুল কম্বোজ ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২২ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। গুরনূর ব্রার ৪৪ রানে নেন ৩ উইকেট।নিউজিল্যান্ডের হয়ে টিম সেইফার্ট ৩৮, গ্লেন ফিলিপস ৩০ এবং ড্যারিল মিচেল ২৮ রান করেন।সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ৭ নভেম্বর ওয়েলিংটনে।
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।২০২২ সালের ১৮ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তারা। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ছাড়ার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথা ও বুকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনারও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন সংকট। একদিকে বাজারের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে যাতায়াত, রান্না ও অন্যান্য ব্যয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বরং কারও কারও কাজ ও উপার্জন কমেছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিলাসিতা তো দূরের কথা, মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কমছে খাবারের বৈচিত্র্য, সঞ্চয়ে পড়ছে টান, অপূর্ণ থাকছে সন্তানের আবদার।রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা, বিক্রেতা ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন চিত্র। তাদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন আর শুধু বাজারের হিসাব নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকট।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিফাতের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়ও। আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার ও ব্যবসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।আজিজ বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আগে যে আয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিসও কিছুটা ত্যাগ করতে হচ্ছে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, আর কি।’রাস্তার পাশের আরেক দোকানি মিজানের অবস্থা আরও করুণ। আগে সপ্তাহে এক-দুবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দৈনিক আয় ছয় থেকে সাতশ টাকা হলেও খরচ হচ্ছে সাত থেকে আটশ টাকা। ঘাটতি মেটাতে খাবারের খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই তার।মিজান বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্তরা বেশি কষ্টে আছি। অতি নিম্নবিত্তরা কারও কাছে হাত পাততে পারে, কিন্তু আমরা তো পারি না। সন্তানের আবদার পূরণ করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনও ঠিকমতো মেটাতে পারছি না।’বাজারের বাড়তি খরচে দিশাহারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মধ্যবিত্তরাও। এক দম্পতি জানান, বাজারে ঢুকলেই অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই চলে যায় পাঁচশ টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে বাজারের খরচেই ব্যয় হয় অর্ধেকের বেশি। এরপর যাতায়াত ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় তো রয়েছেই।একটি পোশাক কারখানায় মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করেন সাইফ। তার মতে, পণ্যের দাম বাড়ারও একটি সহনীয় সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের পক্ষে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।সাইফ বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। আবেগের জায়গা থেকে সব সময় যেটা খেতে অভ্যস্ত, সেটাই খেতে চাই। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে। একেবারে খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ নেই, তাই কমিয়ে-বাড়িয়ে খেতে হচ্ছে।’আগে কম টাকায় বেশি পণ্য কেনা গেলেও এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজারে এসে বেশি দাম দেখে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরতে হয়। আবার একান্ত প্রয়োজনের কারণে কোনো কোনো পণ্য বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। অনেকে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করেছেন, কমিয়েছেন পণ্যের পরিমাণ। আহাদ আলী নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতা খুবই কম। সবাই হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আমরা পাইকারিতে আগে যে দামে পণ্য কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’তিনি বলেন, গত এক বছরে পাম তেল ও পোলাওয়ের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে পাম তেল কিনতেন। এখন সেই দামে আর কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। বিক্রির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮৫ থেকে ১৮৬ টাকায়।মাছ বিক্রেতা শাকিলের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ভালো পরিমাণে বাজার করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য হচ্ছে না।’দিনমজুর আমীন আলীর জীবনেও সংকটের শেষ নেই। আগে একটি কাজ করে পাঁচ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এখন কাজই পান কম, পেলেও অনেক সময় আয় হয় মাত্র চার-পাঁচশ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং রান্নার জ্বালানির ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।আমীন আলী বলেন, ‘আমাদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। কাজ পাই না। যা আয় হয়, তাতে অনেক কষ্টেই চলছি।’গরুর মাংসের কথা উঠতেই আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠে। বলেন, ‘গরুর মাংস আমাদের জন্য না, এটা বড় লোকদের খাবার। আমার আয় যদি ছয়-সাতশ টাকা হয় আর গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাহলে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে চাল-তেল কিনব কিভাবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাসে দুইবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন একবারও পারি না। আমাদের মতো মানুষের এখন দুই-বেলা চাল, ডাল কেনাই কঠিন।’তার ভাষ্য, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু—এই চারটি জিনিসের দাম কমলেই আমরা খুশি। আমাদের আর কিছু লাগবে না।’সংসারের টানাপোড়েনের সবচেয়ে নির্মম চিত্র উঠে আসে এক মধ্যবয়স্ক বাবার কথায়। পাঁচ বছর আগেও সীমিত আয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় কখনো কাঠের চুলা, কখনো কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।তিনি বলেন, ‘আগে সীমিত আয়েও চলতে পারতাম। এখন মরা ছাড়া বাঁচার পথ নাই।’সন্তানের খাবারের প্রসঙ্গ তুলতেই অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘সন্তানের দুধ কেনার টাকা নেই। সাবু জ্বাল দিয়ে খাওয়াতে হয়। বাচ্চা খেতে চায় না। সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি।’সংসারের ব্যয় সামলাতে স্ত্রীকেও কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন সেলাইয়ের কাজ করা মিলন। তিনি জানান, ‘বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বউকেও বাইরে কাজে পাঠিয়েছি। কী করব, তিনটা সন্তান আছে, সংসার তো চালাতে হবে।’সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য সচ্ছল মানুষের থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস না পেলেও বিল দিচ্ছেন। টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।এদিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ে। চালের দাম জাত ও মানভেদে ভিন্ন। ডিমের দামও বর্তমানে ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারণ করছে। বাজারে চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও অধিদপ্তর নজর রাখছে।
১৪ ঘন্টা আগে
দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে অনেকেই নিয়মিত চশমা ব্যবহার করেন। তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, চশমা পরে নামাজ আদায় করা যাবে কি না কিংবা সেজদার সময় চশমা পরা থাকলে নামাজের কোনো সমস্যা হবে কি না।এ বিষয়ে কালবেলার পাঠকদের জন্য শরিয়তের বিধান জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী।তিনি বলেন, চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেজদার সময় চশমার কারণে কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হয় কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।চশমা পরে নামাজ আদায়ের বিধান কীমশা-মাছি পড়লে কি খাবার অপবিত্র হয়ে যায়?কেননা, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এ সময় তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতিও ইশারা করেন। দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ।’ (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০)সুতরাং, চশমা পরে সেজদা করলে যদি কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখা যায়, তাহলে চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু চশমার কারণে নাক জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হলে তা খুলে নামাজ আদায় করতে হবে। কেননা, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিনা ওজরে নাক জমিনে না রেখে সেজদা করা মাকরুহে তাহরিমি। (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২৮, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন: ১৩/১৮৬)
ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবনে নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা মানসিক অস্থিরতার কারণে কখনো কাছের মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। আবার অনেক সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রাখা সম্ভব হয় না। এসব ঘটনা থেকে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে সেই দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক ওয়েবসাইট হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমা চাওয়া মানে শুধু নিজের ভুল স্বীকার করা নয়, বরং সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনস্তত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোনাল্ড সিগেলের মতে, কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে কে বেশি দায়ী, তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে অনেকেই নিজের ভুল বা ভূমিকা বুঝতে পারেন না। অথচ সম্পর্কের বন্ধন পুনর্গঠনের জন্য নিজের অবস্থান বোঝার পাশাপাশি অপর ব্যক্তির কষ্ট ও অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কে ঠিক আর কে ভুল, সেই বিতর্কে না জড়িয়ে অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা উচিত।ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের প্রয়াত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্ষমা বিষয়ে গবেষক ডা. অ্যারন লাজারে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।১. নিজের ভুলের দায় স্বীকার করাক্ষমা চাওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া। নিজের আচরণে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পেয়ে থাকলে তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে। অস্পষ্ট বক্তব্য কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্ষমা প্রার্থনার আন্তরিকতা নষ্ট করে। তাই কী ভুল করেছেন, তা বুঝতে পেরে সরাসরি স্বীকার করা জরুরি।২. ভুলের কারণ ব্যাখ্যা করা, অজুহাত নয়কোনো ভুলের পেছনে কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি থাকতে পারে। চাইলে এসব কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে পরিস্থিতিকে নিজের খারাপ আচরণের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না। বরং স্পষ্ট করতে হবে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।৩. অনুশোচনা প্রকাশ করাশুধু ভুল স্বীকার করলেই যথেষ্ট নয়, নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করতে হবে। অপর ব্যক্তি যে মানসিক কষ্ট পেয়েছেন, তা উপলব্ধি করে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে বোঝা যায়, ক্ষমা চাওয়াটি কেবল বিরোধ মেটানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজের ভুল সম্পর্কে প্রকৃত উপলব্ধি থেকে এসেছে।৪. ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াক্ষমা চাওয়ার পর নিজের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আচরণের কারণে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা যথাসম্ভব সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ভুল যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কথার পাশাপাশি আচরণে পরিবর্তন আনতে পারলেই ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।ক্ষমা চাওয়ার সময় যে কথাগুলো এড়িয়ে চলবেনক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে শব্দ ও বাক্য নির্বাচনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ‘আমার ব্যবহারের জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। অফিসে কাজের চাপ ছিল, কিন্তু সেই কারণে তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করা আমার উচিত হয়নি’—এ ধরনের বক্তব্যে নিজের ভুলের দায় স্বীকারের পাশাপাশি পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়।অন্যদিকে, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে’ কিংবা ‘তুমি যদি এতটা সংবেদনশীল না হতে’—এ ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব কথায় নিজের ভুলের দায় স্বীকারের পরিবর্তে অপর ব্যক্তির অনুভূতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এতে সম্পর্কের দূরত্ব কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার মূল ভিত্তি হলো নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া, অপর ব্যক্তির অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। অহংকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রবণতা বাদ দিয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে পারলে সম্পর্কের হারানো আস্থা ও পারস্পরিক সম্মান ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও গেমিংয়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন কম্পিউটার ও ল্যাপটপ দেশের বাজারে এনেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট। স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারে আসা এসব ডিভাইসে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর, গ্রাফিকস কার্ড ও এআই মডেল পরিচালনার সুবিধা।নতুন পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে গিগাবাইট এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটার, এআই টপ অ্যাটম এবং গিগাবাইট ঈগল ৯এলজে ল্যাপটপ। পণ্যগুলোতে এআইভিত্তিক কাজের পাশাপাশি গেমিং, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।গিগাবাইট এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটারে রয়েছে ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৯ ২৮৫কে প্রসেসর, ১২৮ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম এবং এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৯০ গ্রাফিকস কার্ড। এতে ২ টেরাবাইটের অরাস জেন৪ এসএসডি, ৩২০ জিবির এআই টপ ১০০ই স্টোরেজ, ১৬০০ ওয়াটের ৮০ প্লাস প্লাটিনাম পাওয়ার সাপ্লাই এবং ৩৬০ মিলিমিটারের অরাস লিকুইড কুলার রয়েছে। কম্পিউটারটির দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা।অন্যদিকে, গিগাবাইট এআই টপ অ্যাটম কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়েছে এনভিডিয়ার জিবি১০ গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল সুপারচিপ। এতে রয়েছে ১২৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ১ পেটাফ্লপ এফপি৪ পারফরম্যান্স। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ২০০ বিলিয়ন প্যারামিটারের এআই মডেল পরিচালনায় সক্ষম। কম্পিউটারটির দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা।এ ছাড়া গিগাবাইট ঈগল ৯এলজে ল্যাপটপে রয়েছে এএমডি রাইজেন ৫ ৭৫৩৫এইচএস প্রসেসর, ৮ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম, ৫১২ জিবি পিসিআই জেন৪ এসএসডি এবং ৬ জিবি মেমোরির এনভিডিয়া আরটিএক্স ৩০৫০ গ্রাফিকস কার্ড। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ব্যাকলিট কিবোর্ড ও টাইপ-সি পোর্ট। এর দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান বলেন, নতুন ডিভাইসগুলোতে কম্পিউটারেই এআইয়ের কাজ করার সুবিধা থাকায় ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইভিত্তিক কাজ, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে।প্রতিষ্ঠানটির প্রচারমূলক তথ্য অনুযায়ী, এআই টপ সিরিজের ডিভাইসগুলোতে এআইভিত্তিক কাজের উপযোগী হার্ডওয়্যার, সহজ ব্যবস্থাপনা, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়ানোর সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ডিভাইসগুলো দেশের বিভিন্ন আইটি শপ ও স্মার্ট টেকনোলজিসের অনুমোদিত শোরুমে পাওয়া যাচ্ছে।