ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হওয়ার পর তারা সড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকরা কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।আন্দোলনে ফতুল্লার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইংসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অংশ নেন। তাদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানারে নয়, শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জেলা পুলিশের একটি দল। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিন ধরে চলা বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মানুষকে। এছাড়া, প্রক্রিয়াধীন আছে আরও ৬ মামলা।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।তিনি জানান, পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ১৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬০ জন।এসব ঘটনায় আরও অন্তত ৬টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।এদিকে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাদের ছত্রভঙ্গে করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। পাশাপাশি কয়েকটি টিয়ারশেল ছোড়ে তারা। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাদের হটিয়ে দেয় পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপনগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকরা মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসতে থাকেন। তারা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুদিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের পর আজ সোমবার সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি। পথচারী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্পমালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। এসব ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।সোমবারও কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি পক্ষ সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইবেন না। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলে সরকার বিশ্বাস করে। তবে কোনো শ্রমিক সংগঠনের নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদেরও সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এদিন সকাল ৮টার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানেগ্যাস ব্যবহার করে। পরে শ্রমিকরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।একপর্যায়ে দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল।এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকরা। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে সহিংসতা ও ভাঙচুরের মধ্যে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় এবং গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৪০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে ২৬৪টি এবং গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় সোমবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।এ ছাড়া আটটি কারখানায় ভাঙচুরের কথা জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। আন্দোলনের মধ্যে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে শিল্প পুলিশ-২ আশুলিয়া আঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে ২৬৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।এ ছাড়া পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আর্টিস্টিক ফ্যাক্টরির সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগ করেন।অপরদিকে শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন দুপুরে বলেন, আজও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বাস-ট্রাক ভাঙচুর করেছে। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।এদিন সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর ফটকেও সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ ও শিল্প পুলিশ।এদিকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তবে সেখানে কোনো কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
একটি হার ও একটি ড্রয়ের পর জয়ে ফেরার ম্যাচে লিওনেল মেসির জাদু দেখল ইন্টার মায়ামি। দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্টের পর নিজেই করেন চোখধাঁধানো গোল। আর্জেন্টাইন মহাতারকার নৈপুণ্যে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল স্বাগতিক নিউ ইংল্যান্ডের। মায়ামির রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালালেও বিরতির আগে গোলের দেখা পায়নি তারা। ছয়টি শট লক্ষ্যে রাখা এবং পাঁচটি কর্নার আদায় করেও গোলশূন্য থাকতে হয় স্বাগতিকদের।বিরতির পর অবশ্য ম্যাচে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মায়ামি। ৬৯ মিনিটে মেসির দারুণ এক অ্যাসিস্টে সমতায় ফেরে দলটি। সতীর্থকে পাস দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ার পর বাতাসে ভাসানো ক্রসে হেড করে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। জার্মান বারতারাম সহজেই বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান।এরপর জয়সূচক গোলের দায়িত্বটাও নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বক্সের সামনে তিন ডিফেন্ডারের বাধার মুখেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা। সতীর্থের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোলরক্ষক টার্নারকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।মেসির এই গোলটি তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৩৭তম। একই সঙ্গে ওপেন প্লে থেকে গোলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২-এ, যা নতুন রেকর্ড।ম্যাচের শেষ দিকে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নিউ ইংল্যান্ড। তবে অফসাইডের কারণে ইয়ান ফ্রের গোলটি বাতিল হওয়ায় স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় নিউ ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি। পাশাপাশি নিয়মিত মৌসুমে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৭ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে খেলা নিশ্চিত করেছে দলটি।৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে আগামী ৭ নভেম্বর নিজেদের মাঠে শার্লোট এফসির মুখোমুখি হবে মায়ামি। সেই ম্যাচ দিয়েই এমএলএসের চলতি মৌসুমের নিয়মিত পর্ব শেষ করবে দলটি।ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ ক্রিশ্চিয়ান গঞ্জালেজ বলেন, ‘এটা আমাদের খেলোয়াড় ও ক্লাবের জন্য আনন্দের বিষয় যে, আমরাও অবদান রাখতে পারছি। আমরা এমন একটি ক্লাবে আছি, যারা ক্রমাগত উন্নতি করছে। আমাদের দলে নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের জেতা প্রয়োজন ছিল এবং আমরা কেমন দল হতে চাই, সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম।’
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে হাজির হয়েছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘কিং’। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটির প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ করা হয়েছে এই বিশেষ দিন উপলক্ষে। রোমান্টিক গানটিতে শাহরুখের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। গান প্রকাশের পর থেকেই দুই তারকার রসায়ন, শাহরুখের নতুন লুক এবং সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।‘তু মিল যায়ে’ গানটির সুর করেছেন সংগীত পরিচালক জুটি শচীন–জিগার। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান ও ভারতের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। দুই সংগীতশিল্পীর যৌথ পরিবেশনা শ্রোতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছেগানটিতে শাহরুখ ও দীপিকার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভক্তদের। তাঁদের পর্দার রসায়ন দেখে অনেকের মনে পড়েছে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার কথা। সেই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় জুটি হিসেবে দর্শকের সামনে এসেছিলেন তাঁরা। নতুন গানেও দুই তারকার রসায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন অনেকে। একই সঙ্গে শাহরুখের শারীরিক গঠন ও নতুন অবতার নিয়েও চলছে আলোচনা। গানের শুরুতেই শাহরুখের একটি সংলাপ রয়েছে- ‘ম্যায় কাতিল নহি, আশিক হুঁ’। বাংলায় যার অর্থ, ‘আমি খুনি নই, প্রেমিক’। সংলাপটি গানটির রোমান্টিক আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এড শিরান ও অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠের সমন্বয়ও শ্রোতাদের প্রশংসা পাচ্ছে। জন্মদিনে শাহরুখের জন্য গুগলের আয়োজনশাহরুখের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গুগল। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা–ওরলি সি লিংকে ‘কিং’ সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয় বিশেষ একটি স্থাপনা। গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে আয়োজনটি দেখতে যান শাহরুখ নিজেই। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আয়োজনটির ছবি প্রকাশ করে গুগল জেমিনিকে ধন্যবাদ জানান অভিনেতা। মজার ছলে তিনি লেখেন, ‘দোস্ত হো তো গুগল জেমিনি জ্যায়সা’- অর্থাৎ বন্ধু হলে গুগল জেমিনির মতো হওয়া উচিত। শাহরুখের এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যও ভক্তদের নজর কেড়েছে। বড় তারকাদের নিয়ে ‘কিং’‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমার পর শাহরুখের নতুন প্রকল্প ‘কিং’ নিয়ে আগে থেকেই দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। এতে শাহরুখ ও দীপিকা ছাড়াও অভিনয় করেছেন অভিষেক বচ্চন, রানী মুখার্জি ও সুহানা খানসহ আরও অনেকে। সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে ছবিটির প্রচারণায় নতুন গতি এসেছে। এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দায় শাহরুখের নতুন অবতার দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, আমদানিকারক, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে এই দাম বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে বিইআরসি।নতুন দর আজ রাত ৮ টার পর থেকে কার্যকর হবে। যদিও বাজারে বিইআরসি ঘোষিত দরে গতমাস থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অক্টোবর মাসে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হলেও খোদ রাজধানীতেই বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়।একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯১.৯৫ টাকা করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস সেপ্টেম্বর মাস প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩.০৯ টাকা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিক্রেতাদের কমিশনও।আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ দশমিক ৭৬ টাকা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অস্থির হয়ে পড়েছে এলপিজির বাজার। অন্তর্জাতিক বাজারদর উর্ধমূখী হলে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দেন। এতে করে ১৫৮৫ টাকার এলপিজি কোথাও কোথাও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হতে থাকে।
৫ ঘন্টা আগে
দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে অনেকেই নিয়মিত চশমা ব্যবহার করেন। তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, চশমা পরে নামাজ আদায় করা যাবে কি না কিংবা সেজদার সময় চশমা পরা থাকলে নামাজের কোনো সমস্যা হবে কি না।এ বিষয়ে কালবেলার পাঠকদের জন্য শরিয়তের বিধান জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী।তিনি বলেন, চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেজদার সময় চশমার কারণে কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হয় কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।চশমা পরে নামাজ আদায়ের বিধান কীমশা-মাছি পড়লে কি খাবার অপবিত্র হয়ে যায়?কেননা, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এ সময় তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতিও ইশারা করেন। দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ।’ (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০)সুতরাং, চশমা পরে সেজদা করলে যদি কপাল ও নাক যথাযথভাবে জমিনে রাখা যায়, তাহলে চশমা পরে নামাজ আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু চশমার কারণে নাক জমিনে রাখতে বাধা সৃষ্টি হলে তা খুলে নামাজ আদায় করতে হবে। কেননা, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিনা ওজরে নাক জমিনে না রেখে সেজদা করা মাকরুহে তাহরিমি। (সহিহ বোখারি: ৮১২, সহিহ মুসলিম: ৪৯০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২৮, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন: ১৩/১৮৬)
আকাশে হালকা সাদা মেঘ আর সকালবেলার কুয়াশার ইঙ্গিত জানিয়ে দিচ্ছে শীত আসন্ন। বাংলাদেশে শীত খুব দীর্ঘ না হলেও ত্বক, চুল, হাত-পায়ের জন্য এ সময়টা হয়ে ওঠে বেশ কঠিন। হঠাৎ করে ঠান্ডা হাওয়া আর শুষ্ক আবহাওয়া ত্বককে রুক্ষ করে তোলে, চুলে দেখা দেয় খুশকি, আর হাত-পা ফেটে ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি নামার আগেই সঠিক যত্নে অভ্যস্ত হয়ে গেলে মৌসুম জুড়েই সতেজ থাকা সম্ভব।ত্বকের যত্নশীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই এখন থেকেই ত্বককে প্রস্তুত করা জরুরি।ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: ত্বক ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। অয়েল-বেসড ক্রিম বা লোশন এ সময়েন জন্য উপযুক্ত।ক্লিনজিং ও এক্সফোলিয়েশন: হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একবার নরম স্ক্রাব ব্যবহার করলে মৃত কোষ উঠে যাবে, তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা চলবে না।প্রাকৃতিক উপাদান: মধু, দই, অ্যালোভেরা জেল বা শসার প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্রতা ফিরে পায়।সানস্ক্রিন: শীতে সূর্যের আলো কম মনে হলেও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই দিনে বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।চুলের যত্নশীতকালে চুল দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে, মাথার ত্বকে খুশকি দেখা দেয়।তেল মালিশ: সপ্তাহে অন্তত দু’বার নারকেল, জলপাই বা বাদাম তেল দিয়ে হালকা গরম করে মাথায় মালিশ করলে চুলে আর্দ্রতা ফিরে আসে।শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার: অল্প পরিমাণে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে অবশ্যই কন্ডিশনার দিন। অতিরিক্ত শ্যাম্পু চুলকে আরও শুষ্ক করে দেয়।প্রাকৃতিক প্যাক: ডিম ও দই মিশিয়ে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে চুল নরম ও উজ্জ্বল থাকে।খুশকি নিয়ন্ত্রণ: নিমপাতা সিদ্ধ করে পানি ঠান্ডা করে ধুয়ে নিলে খুশকি কমে যায়।হাত-পায়ের যত্নশীতে হাত-পা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাটা গোড়ালি বা শুকনো হাত অনেক সময় ব্যথার কারণ হয়।হাতের যত্ন: প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিন লাগালে হাত নরম থাকে।পায়ের যত্ন: সপ্তাহে একদিন গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন। পরে স্ক্রাব দিয়ে ঘষে ফাটা অংশ পরিষ্কার করে ভ্যাসলিন বা ক্রিম ব্যবহার করুন।গোড়ালি সুরক্ষা: শীতকালে খোলা স্যান্ডেল পরা এড়িয়ে চলুন। তুলোর মোজা ব্যবহার করলে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকে।খাবার ও পানিশীতের যত্ন শুধু বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ যত্নও জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, শাকসবজি ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ত্বক ও চুল উভয়ের জন্য উপকারী। বাদাম, মাছ, ফলমূল শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়।শীত আমাদের জীবনে ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে। তবে একটু সচেতনতা আর যত্ন নিলে ত্বক, চুল ও হাত-পা সবই থাকবে সুস্থ ও আকর্ষণীয়। শীত আসার আগেই অভ্যাস গড়ে তুলুন, তাহলেই মৌসুমজুড়ে সৌন্দর্যের হাসি ফুটবে আপনার মুখে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে কোনো ওয়েবসাইট বা সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য চুরি কিংবা ক্ষতিকর সফটওয়্যার স্থাপন করতে পারেন হ্যাকাররা। ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ ত্রুটির প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ‘পিএইচপি২শেল’ নামে দুটি ত্রুটি (বাগ) প্রকাশ্যে আসে। এগুলোকে যথাক্রমে CVE-2026-109618 ও CVE-2026-109619 শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়েছে। বাগ দুটি সংশোধনে সিকিওরিটি আপডেট করেছে পিএইচপি ফাউন্ডেশন। তবে এখনো অনেক সার্ভারে এই আপডেট না পৌঁছানোয় সেগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।এই ত্রুটিগুলো কীভাবে কাজ করে? পিএইচপি একটি ওপেন সোর্সের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, যা দিয়ে ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল ও জুমলার মতো জনপ্রিয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মেও পিএইচপি ব্যবহৃত হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ত্রুটি দুটি প্রথম শনাক্ত করা হলেও তখন সেগুলো কাজে লাগানোর কার্যকর পদ্ধতি জানা যায়নি। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ত্রুটি দুটি ব্যবহার করে আক্রমণের কৌশল বের করেন। এরপর পিএইচপি ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানানো হলে ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।এ ত্রুটির বিশেষ ঝুঁকি হলো, আক্রমণ চালাতে ব্যবহারকারীর কোনো লিংকে ক্লিক করা বা ফাইল খোলার প্রয়োজন হয় না। আক্রান্ত সার্ভারে যথাযথ সিকিওরিটি আপডেট না থাকলে দূর থেকেই সেখানে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানো সম্ভব হতে পারে। সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় একে ‘রিমোট কোড এক্সিকিউশন’ বলা হয়।এ ধরনের আক্রমণের মাধ্যমে হ্যাকাররা সার্ভারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি কিংবা পরবর্তী সময়ে আবার প্রবেশের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্তক্যালিফ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা গবেষকেরা পিএইচপির কোড নিরীক্ষার সময় ত্রুটি দুটি শনাক্ত করেন। তারা ওপেনএআই ও ক্লাউড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজের ‘হ্যাক দ্য প্ল্যানেট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে ওপেনএআই ত্রুটি কাজে লাগানোর পরীক্ষামূলক পদ্ধতিগুলো যাচাই করে।গবেষকেরা জানিয়েছেন, ত্রুটি কাজে লাগানোর প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। তবে কাজটির বড় অংশ নির্ভর করেছে গবেষকদের আগে থেকে থাকা দক্ষতা, পিএইচপির কোড সম্পর্কে জ্ঞান এবং অতীতের সাইবার হামলার কৌশল বোঝার ওপর।এদিকে, নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশের আগেই ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে ১৭ অক্টোবরের দিকেই এ ধরনের কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে হামলাকারীরা কীভাবে ত্রুটির তথ্য পেয়েছিল, তা নিশ্চিত নয়।এখন কী করা প্রয়োজন?সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কস ও ট্রেইল অব বিটসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে ত্রুটি দুটি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশ এবং পরবর্তী ক্ষতিকর কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত ব্যবস্থার পরিচয় তখনো জানা যায়নি।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ছোট প্রতিষ্ঠান ও স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট পরিচালকেরা সময়মতো হালনাগাদ না করায় আগামী দিনগুলোতেও হামলার ঝুঁকি থাকবে। পিএইচপি ব্যবহার করা ওয়েব সার্ভারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সরঞ্জাম, নেটওয়ার্ক যন্ত্র ও নিরাপত্তা পণ্যেও সংশ্লিষ্ট উপাদান থাকতে পারে।ওয়েবসাইট পরিচালকদের দ্রুত পিএইচপির নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করা, সার্ভারের লগ পরীক্ষা করা এবং অননুমোদিত প্রবেশের লক্ষণ খুঁজে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুরোনো সফটওয়্যারনির্ভর ব্যবস্থায় হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা পুরোনো প্রযুক্তির নিরাপত্তা দুর্বলতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নতুন ত্রুটি শনাক্ত করার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকেও সামনে এনেছে। ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলা ঠেকাতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।