পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) চলতি বছরের ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে দুই বছর এবং ছয় শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।গত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রাগিং এর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ড. কামরুজ্জামান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র বলছে, ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়া সময় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরে তাকে জরুরি অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সভার ৭৭.২০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদন্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পিতা-মাতাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিবে বলে সিদ্ধান্তও ঐ সভায় হয়। এ ঘটনায় ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. নাজমুস সাকিবকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হোসেন সরকার এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিম এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাজমিম তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সোহানুর রহমান সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে সংবাদ দেখলাম। কিন্তু এখনো আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। খুদেবার্তায় তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগ দেয় সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মানসিক চাপে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের এক নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত আটটার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত এগারোটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
১৮ ঘন্টা আগে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সব শিক্ষকদের নিয়ে ‘কোডিং, ডিকোডিং অফ এক্সাম স্ক্রিপ্টস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারী-২ এ কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশনাল অব কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)।এই পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় শিক্ষার্থীর কোন তথ্য খাতায় চিহ্নিত করার সুযোগ থাকে না। ফলে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে না। পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, খাতা দেখার পদ্ধতি নিখুঁত হয়, ফলে খাতা দেখার সময় কমে যায়। স্বল্প সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়। কোডিং পদ্ধতির ব্যবহারিক ধারণা ও প্রযুক্তিগত দিক নির্দেশনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।সকালে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে একজন শিক্ষার্থী এবং তাঁর পরিবারের পরিশ্রম, স্বপ্ন, ভবিষ্যত জড়িত থাকে। তাই পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা দেখাতে হবে। একজন শিক্ষকের ভুলে একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই দায়িত্ব নিয়ে খাতা দেখতে হবে। শিক্ষকতা চাকরী হিসেবে না দেখে দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রযুক্তির সর্বশেষ পদ্ধতি তথা খাতা দেখার পদ্ধতিতে আমরা কোডিং চালু করছি। এর মাধ্যমে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়।উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কোডিং, ডিকোডিং চালু করার মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা দেখা নিখুঁত হবে, দ্রুত সময়ে ফল প্রকাশ করা যাবে। অনেক জটিলতা দুর হবে। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে কারিকুলামে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শুরু হবে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। দ্রুত সময়ে খাতা জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ফল প্রকাশ করতে হবে।কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান কোডিং পদ্ধতিতে খাতা দেখার পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কথা জানান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা। রিসোর্স পার্সন হিসেবে কর্মশালা পরিচালনা করেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম।
২ দিন আগে
নোয়াখালীর সেনবাগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে—নোবিপ্রবিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দুপুরে সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে সেনবাগ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুক। প্রধান আলোচক ছিলেন নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইরফানুল হক চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সেনবাগের শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দিয়ে সবর্ধনা দেওয়া হয়। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
৫ দিন আগে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও ফেয়ারওয়েল অ্যান্ড ফিজিক্স নাইট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্বাধীনতা চত্বরে পদার্থবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরি এবং কোনো কিছু না জানলে অন্যের কাছ থেকে শিখে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জীবনে কোনো বাধা বা ব্যর্থতায় থেমে যাওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সময় যে বিভাগ পাওয়া যায়, সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে সেখান থেকেই ভালো করার চেষ্টা করতে হবে।নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে উপাচার্য বলেন, পছন্দের বিষয় ডাক্তারি পড়ার সুযোগ না পেলেও তিনি থেমে যাননি। বরং যে বিষয় পেয়েছেন, সেটিতেই সর্বোচ্চ ভালো করার চেষ্টা করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করে তাদের সম্মান রক্ষায় ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, নিজেকে মূল্যবান করে গড়ে তুলতে হবে। যে নিজের মূল্য বোঝে না, তাকে কেউ মূল্য দেবে না। জীবনের চলার পথের জ্বালানি হলো স্বপ্ন—তাই স্বপ্ন দেখা কখনো বন্ধ করবে না।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মো আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল আলম।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যেখানেই থাকুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকবেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের সঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও জড়িত। তাই কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা ও সততার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান বলেন, সামনে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। নিজেদের যত বেশি দক্ষ ও যোগ্য করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা যাবে, জীবন তত সুন্দর ও সফল হবে।অনুষ্ঠানে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজিত ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
২ সপ্তাহ আগে