মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান, (বিশেষ প্রতিনিধি), বার্সেলোনা, স্পেন:
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৭:৩২:৫৫
বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপোতে নজর কাড়ল বাংলাদেশের পোশাকশিল্প
স্পেনের বার্সেলোনায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল মেলা ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’। গত ২১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই মেলাটি ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। স্পেনের সবচেয়ে বড় এই বস্ত্র প্রদর্শনীতে বরাবরের মতোই বিশ্ব দরবারে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প।
বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী কেন্দ্র ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক (Fira de Barcelona Montjuïc)-এর ২ নম্বর হলে এই মেলার ১০ম সংস্করণটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের ৩০০-এরও বেশি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় তুরস্ক, কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো তাদের জাতীয় প্যাভিলিয়ন নিয়ে হাজির হয়েছিল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ সমন্বয়ে এবারের মেলায় বাংলাদেশের মোট ১৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইপিবির আর্থিক সহায়তায় ও তত্ত্বাবধানে এবং বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অংশ নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী ও বিশ্বমানের পণ্য প্রদর্শন করে।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ইউরোপের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ ও নতুন ক্রেতা (বায়ার) আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশী প্যাভিলিয়নে আধুনিক বস্ত্রপণ্য, উচ্চমূল্য সংযোজিত ফ্যাশন আইটেম এবং বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শন করা হয়। মেলা চলাকালীন স্প্যানিশ ও অন্যান্য ইউরোপীয় পোশাক ব্র্যান্ড ও রিটেইলারদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশী স্টলগুলোতে ভালো সাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
ইউরোপের বাজারে আসন্ন শরৎ ও শীতকালীন (Fall/Winter 27-28) ট্রেন্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি পোশাকের প্রতি বায়ারদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলা শেষে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল এবং অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা করেন। তবে ভবিষ্যতে এই মেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই অগ্রিম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই মেলা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা, মেলার অর্গানাইজারদের আরো দায়িত্বশীল আচরণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার উপর জোর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ থেকে আগত ইপিবি, স্পেনে মাদ্রিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, স্পেনে বাংলাদেশ প্রবাসী, সামাজিক রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার ভুয়োসি প্রশংসা করেন। বিশেষ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি'র ভাইস চেয়ারম্যান ও মাদ্রিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সার্বক্ষণিক ফলোআপ ও আন্তরিকতা এবং তাদের প্রতিনিধি বিশেষ করে সর্ব প্রশংসনীয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন এবং স্পেনে মাদ্রিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান এর তৎপরতা, আন্তরিকতা ও সার্বিক সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ইউরোপের বিভিন্ন নতুন ফ্রন্টলাইন বায়ারদের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি এবং অর্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এই এক্সপো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে আলে আশা করেন।
তিন দিনের এই আয়োজনে শুধু বাণিজ্যই নয়, বরং টেক্সটাইল খাতের টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নানা সেমিনার ও নেটওয়ার্কিং সেশনও অনুষ্ঠিত হয়।
সার্বিকভাবে, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের গুণগতমান ও সক্ষমতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো এবারের এই আসরের ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর।